ওমানের আল মেলাদ্দায় গাড়ির ভেতরে এসি গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের চার সহোদরের মরদেহ আগামী মঙ্গলবার দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে এবং পরদিন বুধবার (১৩ মে) সকালে ওমান পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত চার ভাই বিয়ের কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে গাড়ির ভেতর অসুস্থ বোধ করেন। তারা একটি হাসপাতালের পার্কিংয়ের কাছে গাড়িটি থামিয়েছিলেন, কিন্তু চিকিৎসা নেওয়ার আগেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন।
ময়নাতদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, গাড়ির শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাস লিকেজ হয়ে সৃষ্ট বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন— মো. রাশেদ (৩৫), মো. শাহেদ (৩২), মো. সিরাজ (২৭) ও মো. শহিদ (২৪)।
জানা গেছে, ছোট দুই ভাই সিরাজ ও শহিদের বিয়ে উপলক্ষে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে তাদের দেশে ফেরার ফ্লাইট ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতে তারা বারকাহ শপিং মলে গিয়েছিলেন। যে বাড়িতে বিয়ের উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন চার ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে। অসুস্থতার কারণে তাদের বৃদ্ধা মাকে এখনো এই দুঃসংবাদ জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন একমাত্র বেঁচে থাকা ভাই মো. এনাম।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে স্থানীয় সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী নিহতদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করেন। তিনি জানান, ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পৌঁছাবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর মুঠোফোনে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার আশ্বাস দেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর রাঙ্গুনিয়া আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমও নিহতদের বাড়িতে গিয়ে মরহুমদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
স্থানীয় প্রশাসন, ওমান দূতাবাস এবং প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















