চট্টগ্রাম শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

কক্সবাজারে চাহিদার চেয়ে বেশি ২৫ হাজার কোরবানির পশু, তবু স্বস্তিতে নেই খামারিরা

কক্সবাজারে চাহিদার চেয়ে ২৫ হাজার কোরবানির পশু বেশি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

১৪ মে, ২০২৬ | ১১:০৭ অপরাহ্ণ

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পশুর খামারগুলোতে এখন সাজ সাজ রব। জেলায় কোরবানির পশুর জোগান চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি থাকলেও গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক দাম ভাবিয়ে তুলেছে খামারি ও ক্রেতা উভয় পক্ষকেই। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় চাহিদার চেয়ে প্রায় ২৫ হাজার পশু বেশি প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের ৮ হাজার ২৮৭টি খামারে বর্তমানে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে জেলায় পশুর মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৯২টি। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৪ হাজার ৭৭টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৪টি গরু, ৬ হাজার ২৭৯টি মহিষ এবং বাকিগুলো ছাগল ও ভেড়া।

পশুর জোগান পর্যাপ্ত থাকলেও খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। ২০২৬ সালের মে মাসের বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি বস্তা গো-খাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে ভুট্টার গুঁড়া কেজিপ্রতি ৪৫-৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫৮-৬৫ টাকা এবং সরিষার খইল ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফিড তৈরির কাঁচামালের এই অগ্নিমূল্যের কারণে পশুপালনের খরচ গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বাজারে পশুর দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঈদগাঁও রশিদ নগরের খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর তার খামারে ৩৯টি গরু থাকলেও এবার খরচের চাপে তা ২০টিতে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “খাবারের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে বড় গরু পালন করা এখন লোকসানের নামান্তর। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিটি গরুর দাম নিশ্চিতভাবেই বেশি হবে।” খামারিদের মতে, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে এবার বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খামার শিল্পের জন্য অশনিসংকেত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার বাজারে ২ থেকে ৩ মণ ওজনের মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকবে। তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক মধ্যবিত্ত ক্রেতা এককভাবে কোরবানি দেওয়ার বদলে ‘ভাগে’ কোরবানি দেওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ আবার বাজেটের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে গরুর পরিবর্তে ছাগল বেছে নিচ্ছেন। এদিকে, জেলায় ৪৮টি স্থায়ী ও ৪৬টি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৯৪টি হাট বসার কথা থাকলেও অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারা বা ‘ডাক’ প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ. এম. খালেকুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, সংকটের কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, “আমরা খামারিদের খরচ কমাতে কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া প্রতিটি হাটে মেডিকেল টিম থাকবে যেন কোনো অসুস্থ বা ক্ষতিকর উপায়ে মোটাতাজা করা পশু বিক্রি হতে না পারে।”

নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এ. এন. এম সাজেদুর রহমান জানান, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই ও জালিয়াতি রোধে পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট