আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ১৬ দিন পরেও চার আসামির একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটির পরিবারে বাবা নেই। ধর্ষণের পর শিশুটির মা গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় থানায় গেলে ওসি স্যার নেই বলে থানা থেকে ফেরত পাঠানো হয়। ১ মে (শুক্রবার) সকাল ১০টায় ফের থানায় হাজির হন শিশুটির মা। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন তিনি। অবশেষে ২ মে (শনিবার) সকালে মামলা নেয় আনোয়ারা থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী ভিকটিমের খালার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বাড়িতে যাচ্ছিল। রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরার হাড়িয়া পাড়া এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় আবু তাহের তার মুদি দোকানের ভেতরে নিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে আবু তাহের শিশুটিকে নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় রবিউল হোসেন, মো. ফারুক ও আনোয়ার হোসাইন তাদের দেখে ফেলে। তারা তিনজন শিশুটিকে তাদের হাতে তুলে দিতে বলে। এসময় আবু তাহের শিশুটিকে তাদের হাতে তুলে দেয়। এই তিনজন শিশুটিকে পাশের বিলে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। মামলার ১১ দিন পার হলেও এখনো কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা বলেন, আবু তাহেরের পরিবার প্রভাবশালী তাই হয়তো আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হচ্ছে না। তারা রাজনীতি করে, আমরা গরিব মানুষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের তিনজন অফিসার কাজ করছেন। আমরা সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
এদিকে, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গত ৬ মে (বুধবার) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ওয়াহেদ আলী চৌধুরী বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
















