চট্টগ্রামের রাউজানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬টি বসতঘর ও ৭ গরু পুড়ে অঙ্গার হয়ে ভস্মীভূত হয়েছে। গতকাল ১২ মে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টায় রাউজান সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মঙ্গলখালী গ্রামের নোয়ামিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোরবানী হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত দুটিসহ ৭টি গরু পুড়ে অঙ্গার হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন, আবুল কালাম, সামশুল আলম, ফজলুর রহমান, আবদুর রহমান, হাবিবুর রহমান ও আবু তাহের। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র মতে, মঙ্গলবার রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়ে লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একে একে ৫টি বসতঘর ও একটি বসতঘরের রান্নাঘর ভস্মীভূত হয়। প্রতিটি ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, জায়গা-জমির কাগজ, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, খাদ্যসামগ্রী, পাঠ্যবই পুড়ে যায়। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত আবুল কালামের ৭টি গরু পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অন্তত ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আবুল কালাম বলেন, কোরবানে বিক্রির জন্য প্রস্তুতকৃত দুটিসহ ৭টি গরু পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। একটি লুঙ্গি আর একটি গেঞ্জি ছাড়া কিছুই বের করতে পারি নাই। তিলে তিলে গড়া সবকিছু মুহূর্তেই পড়ে গেছে। শুধুমাত্র একটি গরুর বাছুর রক্ষা পেয়েছে।
তৈয়্যবা আকতার নামে ক্ষতিগ্রস্ত এক গৃহবধু বলেন, ‘কিছুই বের করতে পারিনাই। সবকিছু পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। রাউজান ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন কাজ শুরু করে। ততক্ষণে ৭টি গরু অঙ্গার হয়ে যায়। এবং কয়েকটি বসতঘর ভস্মীভূত হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের ধারণা করা হচ্ছে।


















