পাহাড়-নদীতে পরিবেষ্টিত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ ধোপাছড়ি বনাঞ্চল। চন্দনাইশের পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি হয়ে উঠতে পারে পর্যটন এলাকা। যেখানে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ। সেখানে গেলে মনে হবে প্রকৃতি যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য অকৃপণভাবে ঢেলে দিয়েছে। দোহাজারী-লালুটিয়া ও ধোপাছড়ি বনভূমিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক করার প্রস্তাব ইতিপূর্বে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বর্তমান সংসদ সদস্য জসিম উদ্দীন আহমেদ ধোপাছড়িকে পর্যটন শিল্প গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ধোপাছড়ি ও লালুটিয়া বন বিভাগকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে রূপান্তরিত করলে এখানে গড়ে উঠবে হোটেল, মোটেল ও কটেজ। আগমন ঘটবে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে এসে গবেষণার সুযোগ পাবেন। উপজেলার পূর্ব দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত ধোপাছড়িতে ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা পাহাড়। ইউনিয়নের পূর্ব প্রান্তে পার্বত্য জেলা বান্দরবান, দক্ষিণে সাতকানিয়া, উত্তরে রাঙ্গুনিয়া। ইউনিয়নটির দক্ষিণ পার্শ্বে শঙ্খ নদী বয়ে গেছে। পাহাড় নদীর মধ্যখানে দেখা যায় মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা। ইউনিয়নের পুরো এলাকাজুড়ে পাহাড়ের পাদদেশে জন্মেছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও মৌসুমি শাক-সবজি। বনজ গাছগুলো সারি সারি দেখতে অপূর্ব লাগে। ১৪ হাজার ২৭৭ বর্গ একর এলাকার এই ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার লোকের বসতি রয়েছে। তন্মধ্যে পাহাড়ি, বাঙালি, মগ, ত্রিপুরা, মার্মাসহ বিভিন্ন ধর্মের লোক বসবাস করে থাকেন। সবাই মিলে যেন একটি পরিবার।
ধোপাছড়ির পাহাড়ি এলাকায় ২ হাজার একর জায়গাজুড়ে রয়েছে সেগুন, গর্জন, গামারি, সিক্রাসি, গুটগুটিয়া, গোদা, জাম, চাপালিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ। এখানকার চেকখানির ছড়া, চিকনছড়া, মাঈনিছড়া, ঝিরিবুক, ডালুয়া, হরিণমারা, পরানজুরানি, গণ্ডামারা, ঝাউতলা, চৌকিদার ফাঁড়ি পর্যন্ত বিশাল এলাকায় সরকারিভাবে বনায়ন করা হয়।
উপজেলার বিচ্ছিন্ন এ ইউনিয়নটির সাথে সড়ক যোগাযোগের পথ ইতিমধ্যে সুগম হয়েছে। ৫ বছর পূর্বেও যোগাযোগের মাধ্যম ছিল শঙ্খ নদীতে ইঞ্জিনবাহী বোট। তাছাড়া সাতকানিয়া, কেরানীহাট বান্দরবান সড়ক হয়ে শঙ্খের পাড়ে গিয়ে নদী পারাপারের মাধ্যমেও এ ইউনিয়নে যাওয়া যায়। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করে আছে ধোপাছড়ি ইউনিয়ন। বর্তমানে গাছবাড়িয়া থেকে ধোপাছড়ি ও দোহাজারী লালুটিয়া থেকে পৃথক পৃথক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। ফলে দুই দিক দিয়ে অটোরিকশা ও মোটরবাইক যোগে মাত্র ২০-২৫ মিনিটে যাওয়া যায় ধোপাছড়িতে। পাহাড়ের উঁচুনিচু বুক চিরে এঁকেবেঁকে গেছে পিচঢালা পথ। আকাশে ভেসে বেড়ায় নীল-সাদা মেঘের ভেলা। এ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের ধোপাছড়ি হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
ধোপাছড়ির বিশাল বনে এখনো দেখা মেলে প্রচুর বন্যহাতি, বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ, বানর, বনমোরগ, শিয়ালসহ অসংখ্য প্রাণীর। জীব বৈচিত্র্যের সমারোহে ভরপুর ধোপাছড়িকে এক কথায় বলা যায়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।
জানা যায়, সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ধোপছড়ির একাংশকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে। গত ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর দোহাজারী-লালুটিয়া ও ধোপাছড়ি বনভূমিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল মন্ত্রণালয়ে। এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আসমা শাহীন প্রতিবেদন চেয়ে প্রধান বন সংরক্ষক বরাবরে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।
ধোপাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইউসুফ চৌধুরী বলেছেন, ধোপাছড়ি ও লালুটিয়া বন বিভাগকে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে রূপান্তরিত করলে এখানে গড়ে উঠবে হোটেল, মোটেল ও কটেজ। আগমন ঘটবে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের।


















