বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কালীপুরের সুস্বাদু, রসালো ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। উপজেলার কালীপুর, বৈলছড়ি, পুকুরিয়া, জলদী, জঙ্গল চাম্বলসহ প্রতিটি ইউনিয়নের পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে বোম্বাই, কলকাতা ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর চাষ হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার কয়েকগুণ বেশি লিচু উৎপাদন হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজারে দামের খুব একটা কমতি নেই। আকার ও মানভেদে প্রতি একশ লিচু ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের প্রথম লিচু বাজার আসায় চাহিদা ও দাম একটু বেশি, পুরোদমে সরবরাহ শুরু হলে দাম কিছুটা কমতে পারে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লিচু বিক্রির উৎসব চলছে। স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যেও পাইকাররা লিচু কিনতে ভিড় করছেন স্থানীয় বাজারে।
উপজেলায় এখন প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০টি লিচু বাগান রয়েছে। বাগান ইজারাদার নুরুল ইসলাম পেচু এবং জামাল উদ্দীন বলেন, চলতি বছর তারা প্রায় ১৪টি বাগান ১২ লক্ষ টাকায় তারা ইজারা নিয়েছেন। প্রতিটা বাগানে ১০০ থেকে ২৬০টি গাছ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে কয়েক লাখ টাকা আয় হবে বলে তারা আশা করছেন।
মান ভেদে বর্তমানে প্রতি হাজার লিচু ১ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। কালীপুরের বাগান থেকে লিচু কিনতে আসা নুরুল আলম বলেন, কালীপুরের লিচু তুলনামূলকভাবে রসালো ও সুস্বাদু। দাম একটু বেশি হলেও এখান থেকেই ভালো মানের লিচু ক্রয় করে থাকি।
স্থানীয় লিচু চাষি নাছির উদ্দীন বলেন, চলতি বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যদিও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় চাষিদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, বাঁশখালী উপজেলার প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ হচ্ছে। চলতি বছর ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই কালীপুর অঞ্চলে জমিদার পরিবারের উদ্যোগে বোম্বাই, কলকাতা ও চায়না-থ্রি জাতের লিচুর চাষ শুরু হয়। পরবর্তীতে তা জলদী, পুকুরিয়া, সাধনপুর, চাম্বল ও নাপোড়াসহ আশপাশের এলাকাতেও ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে লিচুর চাহিদা থাকায় এখানকার পাহাড়ি এলাকা ও বাড়ির অঙ্গিনায় লিচু কলম চাষের চাহিদা বেড়েছে।


















