ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থানাধীন এলাকায় ভোররাতে একটি গার্মেন্টস রপ্তানি পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে গত ২৩ এপ্রিল। চালকের ভাষ্যমতে, ওইদিন দুটি পিকআপে করে ডাকাত দল ৩৪টি কার্টনে থাকা ৬০৯ পিস টি-শার্ট লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ টাকা। তবে এই নাটক বেশিদিন গড়ায়নি। তার আগেই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে পুলিশ। মূলত, কাভার্ড ভ্যানটির মালিক ও চালক ডাকাতির নাটক সাজিয়ে ওই গার্মেন্টস পণ্য লুট করেছিলেন। সেটি অবশ্য অকপটে স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন কাভার্ড ভ্যান চালক। ওই ঘটনায় সেদিনই মিরসরাই থানায় মামলা হয়েছিল।
তারই সূত্র ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট এলাকা থেকে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং বাকলিয়া এলাকার একটি গোডাউন থেকে লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. নাজিম মিয়া (২৫), মো. হারুন ওরফে ভাইসাব (২৯), মো. সোহাগ (২২) ও মো. নজরুল ইসলাম (৪৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থানাধীন ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের রংধনু ফিলিং স্টেশনের সামনে এই লুটের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে রপ্তানিযোগ্য টি-শার্ট নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি চট্টগ্রামের কেডিএস ডিপোর দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ডাকাত দল ৩৪টি কার্টনে থাকা ৬০৯ পিস টি-শার্ট লুট করে নিয়ে যায়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ লাখ টাকা।
ঘটনার পর মিরসরাই থানায় মামলা দায়ের করা হলে প্রাথমিক তদন্তে কাভার্ড ভ্যান চালক ফরহাদ আলীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে চালক স্বীকার করেন, কাভার্ড ভ্যান মালিক জহিরুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশে এই মালামাল আত্মসাৎ ও লুটের নাটক সাজানো হয়েছিল।
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, লুটের ঘটনাটি মূলত চালক ও মালিকের যোগসাজশেই ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, লুট হওয়া প্রায় সব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান


















