চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্রকল্প ব্যয় কোটি টাকা

৪৭৬ শ্রমিক দিয়ে হালদার মানিকছড়ি অংশে খনন কাজ শুরু

মো. রবিউল হোসেন, মানিকছড়ি

৬ মে, ২০২৬ | ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র (রুই জাতীয়) হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার পর হতে হালদার শাখা, উপ-শাখা বা উজানে পরিবেশ বিরোধী সকল কাজ নিষিদ্ধের পাশাপাশি হালদার উজানে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচি।

গত এক সপ্তাহে হালদার উজান সালদা অংশে ৪৭৬ জন শ্রমিকের কর্মযজ্ঞে দুই কিলোমিটার খনন কাজে লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোতে এসেছে চমৎকার গতি।

অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে খাল খনন কর্মসূচিতে ৪৩ দিনের কর্মকালে কোটি টাকার বরাদ্দে ৫ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা থাকলেও খনন কাজের গতিতে স্বস্তির পাশাপাশি খাল খননে দৈর্ঘ্য আরো বৃদ্ধির আশা করছেন কাজের তদারকি কর্মকর্তা। উপজেলা মৎস্য ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) সূত্রে জানা গেছে, হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুক পাড়া এলাকার পাহাড়ে ঝিরি থেকে। এর পর এটি মানিকছড়ি উপজেলা এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা ও পাঁচলাইশ থানার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলীর মোহনায় সংযুক্ত।

হালদা নদী ও নদীর তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২টি দাগের মোট ২৩ হাজার ৪২২ দশমিক ২৮ একর এলাকা ‘হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ’ করে। ঘোষণার পর হতে হালদার জীবন রক্ষায় সেই রামগড়ের হাসুকপাড়া পাহাড় থেকে কর্ণফুলী নদীর সংযোগস্থল মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকাকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণার পর ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সরকার গেজেট প্রকাশ করেন। এতে হালদা নদীতে ১৬টি শর্ত কার্যকর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এরপর হতে হালদার উজান ও শাখা-প্রশাখায় নজরদারিসহ খালের মরা অংশে পানির প্রবাহ সৃষ্টি করে মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিতে নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিতে হালদাকে অন্তর্ভুক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল অনানুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে খাল খনন কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কাজী মাসুদুর রহমান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান। এ সময় এক সপ্তাহের কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।

পিআইও কাজী মাসুদুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে হালদার উজান সালদা অংশে মরা খাল পুনরুদ্ধারে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে ৪৭৬ জন শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। এসব শ্রমিকেরা ৪৩ দিনে ৫ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ করার টার্গেট থাকলেও কাজের গতি দেখে মনে হচ্ছে বরাদ্দকৃত অর্থে এবং নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকেরা আরো বেশি পরিমাণ খাল খনন করতে সক্ষম হবেন।

প্রসঙ্গত, হালদার উজানে মানিকছড়ি অংশে অন্তত ১০/১২ কিলোমিটার খাল পাহাড়ি মাটিতে ভরাট হয়ে অস্তিত্ব বিলীনের পথে থাকা হালদায় খনন প্রক্রিয়ার ফলে ফিরবে প্রাণ।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট