চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

ঝরে যাচ্ছে ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

ঝরে যাচ্ছে ধান, দুশ্চিন্তায় কৃষক

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ও পূজন সেন

৩ মে, ২০২৬ | ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপণ করেছেন বোয়ালখালীর আমুচিয়া গ্রামের শিখা দে ও টিপু দে। ফসলও ভালো হয়েছে। ধান কেটে আঁটি আঁটি করে রেখেছে জমিতে। গোলায় তোলার স্বপ্নে মাতোয়ারা দুই জা। ঠিক সেই মুহূর্তে হানা দিল কালবৈশাখীর বৃষ্টি। ধান আর ঘরে আনতে পারেননি। তিন দিন ধরে জমিতেই ভিজে মজে রয়েছে কাটা ধান। কাটা ধান নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। শুধু আমুচিয়ার এই দুই কৃষাণী নন। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে পানিতে ডুবে রয়েছে বোরো ধান। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শত শত কৃষক।

 

শিখা দে বলেন, ‘৮০ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। বৃষ্টির ঠিক আগে ধান কেটে জমিতে রেখেছি। কিন্তু ঘরে আনতে পারেননি। কাটা ধান এখন জমিতে ভিজে পচে ঝরে যাচ্ছে। ১২শ টাকা দিয়েও এখন শ্রমিক মিলছে না। কিছু ধান উঠানে এনে শুকানোর চেষ্টা করেছি। শুকাতে পাচ্ছি না। জমিতে বেশির ভাগ ধান ঝরে গেছে।

 

মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে যায়। জমিতে এখনো ডুবে রয়েছে পাকা-আধা পাকা ধান। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে বোরো ধানের চারা পানিতে ডুবে রয়েছে। আবার বিভিন্ন স্থানে কাটা ধানও পানিতে তলিয়ে রয়েছে। জমির ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে কৃষকেরা।

 

বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়নের ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের শিখা দে ও টিপু দে জানান, ভেজা ধান শুকানোর জন্য জমি থেকে বাড়ির উঠানে আনার চেষ্টা করছি। কিন্তু শ্রমিক মিলছে না। প্রতিজন শ্রমিকের মজুরি ১ হাজার টাকা থেকে ১২শ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’ তারা জানান, ‘গত শুক্রবার সকালে রোদ দেখে আশান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু গতকালের বৃষ্টিতে সেই আশা গুড়েবালিতে পরিণত হয়েছে। এখন কী করবো সেই চিন্তায় আছি।’

 

জৈষ্ঠ্যপুরার বামনবিলের কৃষক লিটন চৌধুরী বলেন, ‘১৬০ শতক জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে লাখ টাকার বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে বোরো আবাদ হয়েছে ৭০ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমি। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৬৮ হাজার ৫৪৯ হেক্টর জমি। দেশের বিভিন্ন জেলায় বয়ে যাওয়া ভারী বৃষ্টিতে বোরো ধান ও সবজির বড় ক্ষতি হয়েছে।

 

চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার সংস্থাটির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বজ্রসহ হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এখন বৃষ্টির ফাঁকে ফাঁকে ধান কাটা হচ্ছে। শ্রমিকের কিছু সংকট হলেও হারভেস্টার দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা হচ্ছে। তবে পানি জমি থেকে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে না বলে আশা করছি।’

 

গত শুক্রবার বোয়ালখালীর আমুচিয়ায় দেখা যায়, রোদের ছটায় আশায় বুক বেঁধেছিল কৃষকেরা। ভ্যাপসা গরম ছিল। বাড়ির উঠানে ত্রিপল টাঙিয়ে ভেজা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন কৃষকেরা। শিখা দে বলেন, ‘রোদ দেখে বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ করে ভেজা ধান বাড়িতে এনেছি। দুইদিন শুকাতে পারলেই কিছুটা রক্ষা করতে পারতাম। এখন ধান পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঝরে যাচ্ছে।’

 

শিখা দে বলেন, ৮০ শতক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ফলন ভালোই হয়েছিলো। বৃষ্টির ঠিক আগে ধান কাটা শেষ হয়। কিন্তু ঘরে আনতে পারেননি। জমিতেই গত তিন ধরে ভিজে কাটা ধান। এখন সেই কাটা ধান উঠোনে এনে শুকানোর চেষ্টা করছে। তবে জমিতে বেশির ভাগ ধান ঝরে গেছে।

 

অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন কান্তি বড়ুয়া জানান, ‘এবার ১২০ শতক জমিতে ধান চাষে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কালবৈশাখীর ঝড়ে প্রায় ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’

 

বোয়ালখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর ইসলাম জানান, ‘টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। যার মধ্যে ১০ হেক্টর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে ধান কাটতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগতে পারে।’

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট