
কক্সবাজারের ঝিলংজায় গৃহবধূ শাহীদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯) হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক ও নৃশংস রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ ২০ দিন নিখোঁজের পর উদ্ধার মস্তকবিহীন লাশের পরিচয় শনাক্ত শেষে জানা গেছে, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেকই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক। নিজের স্ত্রীর পরিচয় আড়াল করতে তাকে হত্যার পর মাথা ও দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, শাহীদা আক্তার মুন্নি গত ২৬ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর গত ১১ এপ্রিল বিকেলে ঝিলংজা ইউনিয়নের জানার ঘোনা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও কব্জিবিহীন এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের অবয়ব ও পোশাক দেখে স্বজনরা তাকে মুন্নি বলে শনাক্ত করেন এবং ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই দিনই ডিএমপি ঢাকার গোয়েন্দা বিভাগের সহায়তায় শাহবাগ এলাকা থেকে ঘাতক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক সাইফুল স্বীকার করেছেন যে, গত ২৬ মার্চ রাতে তিনি পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মুন্নিকে রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়। লাশের পরিচয় যাতে কোনোভাবেই শনাক্ত করা না যায়, সেজন্য তিনি মুন্নির মাথা ও দুই হাতের কব্জি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন তিনি শরীরের ধড় অংশটি পাশের একটি ডোবায় ফেললেও, মাথা ও কব্জিগুলো খুরুশকুল নতুন ব্রিজ থেকে বাঁকখালী নদীতে ছুড়ে ফেলেন।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে।
কক্সবাজার সদর থানার ওসি ছমিউদ্দিন জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে নদীতে ফেলে দেওয়া মাথা ও কব্জি উদ্ধারে বাঁকখালী নদীতে এখনো তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ