উজবেকিস্তানের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশনটা বিষাদের সুরেই শেষ করল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। চার দলের গ্রুপে তিন ম্যাচের একটিতেও জয় মেলেনি, এমনকি কোনো গোল করতেও পারেনি দল। পয়েন্ট তালিকার তলানিতে থেকেই শেষ হলো এই আসর।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই টানা ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি ছিল বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ ও সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর ডাগআউটে পরিবর্তন আনে বাফুফে। বরখাস্ত করা হয় ব্রিটিশ হেড কোচ জেরার্ড জোন্সকে, শেষ ম্যাচে দায়ভার দেওয়া হয় সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুকে। কিন্তু কোচ বদলালেও মাঠের ফুটবলে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের একের পর এক আক্রমণের তোপে আরও দুই গোল হজম করতে হয় দলকে।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে এই ফল নিশ্চিতভাবেই বড় এক ধাক্কা। কারণ, মাত্র কয়েক মাস আগেই মালদ্বীপে এই ভারতকেই হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যকে পুঁজি করে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন নিয়ে উজবেকিস্তানে পাড়ি জমিয়েছিল যুব দলটি।
তবে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, পুরো মিশনজুড়ে ছায়া ফেলেছিল দলীয় কোন্দল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ঢাকায় টিম হোটেলে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন কোচ জোন্স ও মিশু, জল গড়িয়েছিল পুলিশ পর্যন্ত। সেই চরম অপ্রীতিকর ঘটনার রেশ ও বিশৃঙ্খলা শেষ পর্যন্ত প্রতিফলিত হলো মাঠের হতাশাজনক ফলাফলে। এই ব্যর্থতার খেসারত হিসেবে আগামী এশিয়ান কাপের মূল বাছাইয়ে খেলার আগে বাংলাদেশকে অংশ নিতে হতে পারে নিচু স্তরের ‘ডেভেলপমেন্ট কাপে’।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















