চট্টগ্রাম শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩:৩৬ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য এক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য সাত দিনের এ অভিযানে ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
 
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন আগামী ৩ নভেম্বর।
 
নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
 
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছেন। সম্ভাব্য এ অভিযানের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের নেতৃত্ব, পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে।
 
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াল জামির।
 
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন। গত ২০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযান সম্পন্ন করার অর্থ হবে ইরানের নেতৃত্বের পতন ঘটানো। দেশটির সরকার পরিবর্তনকে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু। তবে ইরানে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন সম্মত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
 
সংঘাত ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা
 
সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কাতার তেহরান ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনকে আরও সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।
 
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে। একই সঙ্গে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন হামলায় জ্বালানি স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 
এদিকে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান হতে পারে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশকে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
 
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
 
সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে পেন্টাগন। এর অংশ হিসেবে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী এবং মেরিন সেনা বহনকারী উভচর অবতরণকারী যুদ্ধজাহাজ আরব উপসাগরের দিকে পাঠানো হয়েছে।
 
এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক মোতায়েনে প্রায় ৯ হাজার সদস্য রয়েছেন। নতুন এ সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট নৌবাহিনী ও মেরিন সেনার সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের সহায়তায় মোতায়েন থাকবে কয়েকশ সামরিক উড়োজাহাজ।
 
পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিলেন হেগসেথ
 
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির মধ্যেই পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
 
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের অধীনে কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণবিষয়ক দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
 
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
 
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
 
পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট