সৈন্যসংখ্যার হিসাবে এশিয়া যেন বিশ্বের সামরিক শক্তির কেন্দ্রভূমি। জনসংখ্যা, নিরাপত্তা-ঝুঁকি আর ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব মিলিয়ে মহাদেশটিতে গড়ে উঠেছে পৃথিবীর কয়েকটি বিশাল সেনাবাহিনী। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ২০২৬ সালের হিসাবে সবার আগে আছে তিন দেশ: চীন, ভারত ও উত্তর কোরিয়া। প্রত্যেকের সক্রিয় সদস্য ১০ লাখেরও বেশি।
শীর্ষ তিনে কারা
সবার ওপরে চীন, প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার সক্রিয় সদস্য নিয়ে। দেশটির পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় সেনাবাহিনী।
দ্বিতীয় স্থানে ভারত, সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৩১ হাজার। আর তৃতীয় স্থানে উত্তর কোরিয়ার সদস্য প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার। জনসংখ্যার তুলনায় দেশটির সেনাবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে বড়, আর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এর ভূমিকাও কেন্দ্রীয়।
শীর্ষ ১০-এর পূর্ণ তালিকা
১. চীন: প্রায় ২০ লাখ ৩৫ হাজার
২. ভারত: প্রায় ১৪ লাখ ৩১ হাজার
৩. উত্তর কোরিয়া: প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার
৪. পাকিস্তান: প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার
৫. ইরান: প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার
৬. ভিয়েতনাম: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার
৭. দক্ষিণ কোরিয়া: প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার
৮. ইন্দোনেশিয়া: প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার
৯. থাইল্যান্ড: প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার
১০. শ্রীলঙ্কা: প্রায় ৩ লাখ ৪৬ হাজার
সংখ্যার পেছনের গল্প
পাকিস্তান ও ইরানের বড় বাহিনী দুই দেশের নিরাপত্তা-দায়িত্ব ও ভূরাজনৈতিক চাপেরই প্রতিফলন। ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার সদস্যসংখ্যা প্রায় সমান। কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতির গুরুত্ব আলাদা, আর ভিয়েতনাম জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবেই বড় বাহিনী রেখেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বাহিনী অন্যতম বড়। কৌশলগত সমুদ্রপথ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বড় দায়িত্ব।
শুধু সংখ্যায় শক্তি মাপা যায় না
সৈন্যসংখ্যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিধি বোঝায়। প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা বাজেট, রিজার্ভ বাহিনী, রসদ সরবরাহ এবং কৌশলগত সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই তালিকাকে সক্রিয় বাহিনীর আকারের তুলনা হিসেবেই দেখা উচিত, সামগ্রিক সামরিক শক্তির চূড়ান্ত র্যাঙ্কিং হিসেবে নয়।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ


















