ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করতে তৎপরতা জোরদার করেছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তেহরানের প্রাণঘাতী হামলার ষড়যন্ত্রগু ‘উন্নত পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।
এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটনের একটি লিখিত নথি (মেমো) দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন গত ২৩ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তারা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছেন, যাতে দেখা যাচ্ছে—মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের ডানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করলে ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে জবাব দেয়।
হুতিরা ইরানের পক্ষে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। প্রায় আট মাস ধরে চলা এ যুদ্ধ এখন আঞ্চলিক সংঘাতেও রূপ নিয়েছে। এ আঞ্চলিক যুদ্ধের একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যকার সংঘাত।
চলতি মাসের শুরুতে কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে আবার বড় পরিসরে সামরিক হামলা শুরু করলে ইরানও আরও জোরালো জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখ উল্লেখ একটি বার্তায় ক্লেটন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে লিখেছেন, ‘বিশেষ করে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে আমরা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছি যে মার্কিন কর্মকর্তাদের হামলার নিশানা করার তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান।’
ক্লেটন আরও লিখেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ কিছু দেশে মার্কিনদের বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রাণঘাতী হামলার ষড়যন্ত্র এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ওই মেমোর একটি অনুলিপি সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফকেও পাঠানো হয়েছে। মেমোটি গোপনীয় শ্রেণির ছিল না।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে জনবল কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। জরুরি নয়—এমন দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মিশন থেকেও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মিশন থেকে কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গতকাল শনিবার উপসাগরীয় অঞ্চল ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনের বেশি দেশের জন্য ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা হালনাগাদ করেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরায়েল। ইরানের মিত্র হুতিদের কাছ থেকে হামলার হুমকি বেড়ে যাওয়ায় এ সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়।
পূর্বকোণ/মিফতা/পারভেজ


















