ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিশেষ দূত টম বারাক। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ এই কূটনীতিবিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সপ্তাহান্তে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্যারাক বলেন, ‘এই সপ্তাহান্তে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই।’
এর আগে এদিনই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডা রাজ্যে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘আরেকটি ছোটখাটো এপিক ফিউরি’ অভিযান চালাতে পারে। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আট মাসে গড়িয়েছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যস্থতাকারীরা। তবে সংঘাতের অচলাবস্থা কাটেনি। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে হামলার ইঙ্গিত দিলো।
এদিকে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এ প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোথাও সংঘাত আরও তীব্র হলে বেসামরিক মানুষের জীবন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে ইরানে হামলা চালানোর আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার প্রবণতা আরও জোরালো হয়েছে। সূত্র: ইয়েনি সাফাক ও আল জাজিরা
পূর্বকোণ/পিআর


















