চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

দিল্লির রেসকোর্স মসজিদ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০০ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক

২২ অক্টোবর, ২০২৬ | ৫:১২ অপরাহ্ণ

ভারতের নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদের আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ মুসলিম পরিবারকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মসজিদের সামনের কয়েকটি স্থাপনা ভাঙা অবস্থায় দেখা গেছে। অভিযোগ, এলাকায় জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে উচ্ছেদের নোটিশ লাগানো হয়েছে।

 

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস’ (এলঅ্যান্ডডিও) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত এই জমিকে সরকারি সম্পত্তি বলে দাবি করেছে। অননুমোদিত দখল ও নির্মাণকে অপরাধ উল্লেখ করে সেখানে সতর্কতামূলক নোটিশ টাঙানো হয়েছে। নির্দেশ কার্যকরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগকে (সিপিডব্লিউডি)। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের নির্দেশ মেনেই উচ্ছেদ ও পরিষেবা বিচ্ছিন্নের কাজ হচ্ছে। ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

 

অন্যদিকে তুঘলক রোড থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদ সংস্থা সিয়াসত ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন মসজিদ বা কোনো বাসস্থান ভাঙা হয়নি এবং বাসিন্দাদের ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরের মুন্ডকায় বিকল্প আবাসনে যেতে বলা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের ভিডিওতে মসজিদের সামনে ইটের স্তূপ ও ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।

 

মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও মুসল্লিদের প্রতিক্রিয়া

ওয়াকফ বোর্ডে নিবন্ধিত এবং গ্রেড-২ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৮০০ জন নামাজ পড়তে পারেন। ইমামের দাবি, মাত্র ছয় দিনের মধ্যে জায়গা খালি করতে বলা হয়েছে। আইনি সহায়তা চেয়ে তিনি দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে আবেদন করলেও সাড়া পাননি। বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ এবং নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন মুসল্লি সেখানে গিয়ে নামাজ পড়েছেন। তারা একে ধর্মীয় অধিকারের ওপর আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন।

 

প্রেক্ষাপট ও প্রতিবাদ

সম্প্রতি আসামের তিনটি জেলায় বনভূমি দখলমুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকার ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের হিসাবে এক সপ্তাহে ৬৩৮ হেক্টরের বেশি জমি উদ্ধার হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি পরিবার উচ্ছেদ হয়েছে, যাদের অধিকাংশ মুসলিম। কলকাতায়ও একটি মুসলিমপ্রধান কলোনিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে।

 

স্থানীয় ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দখলদার উচ্ছেদের নামে আসাম থেকে দিল্লি পর্যন্ত বিশেষভাবে সংখ্যালঘু মুসলিমদের লক্ষ্য করা হচ্ছে।

পূর্বকোণ/আদর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট