আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হতে পারে-এমন আশঙ্কায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে ইরান। নতুন অস্ত্রের মজুত তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দিয়ে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।
তেহরানের এই অবস্থানের লক্ষ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা থেকে বিরত রাখা। সিএনএনের ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের অবসান হয়নি বলে মনে করছে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব।
নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আরও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা আঘাত হানার প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি গত মাসে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তাদের হাতে এমন নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোতে এখনো হামলা চালানো হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে।’ তার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
ইউরোপেও হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর ইঙ্গিত
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা সংঘাত আবার শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার পরিধি বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নতুন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। প্রয়োজনে এসব হামলায় ‘মাদার অব অল বম্বস’ নামে পরিচিত শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সিএনএন।
ইরানের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি দেশজুড়ে মহড়া চালিয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, একটি মহড়ায় একসঙ্গে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সমন্বিত ড্রোনবহর এবং সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত করার প্রযুক্তি উন্নত করার চেষ্টা করতে পারে। তবে এসব উন্নত সক্ষমতা বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
নতুন যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ
ইরানের সামরিক নেতৃত্ব যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বললেও দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে বোমা হামলা শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তেহরানের এক বাসিন্দা সিএনএনকে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার ভয়ে তিনি পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করছেন এবং মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যাটারি চার্জ দিয়ে রাখছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মকর্তা আলি ভায়েজের মতে, ইরান পরবর্তী সংঘাতের সম্ভাব্য মূল্য সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করতে চাইছে। তবে তেহরানের এই হুমকিকে ওয়াশিংটন উসকানি হিসেবে দেখলে যে যুদ্ধ এড়াতে ইরান প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটিই শুরু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও নতুন সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা যুদ্ধ চান না, তবে নতুন হামলা হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সামরিক হুমকি, পাল্টা প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। তথ্যসূত্র: সিএনএন
পূর্বকোণ/ইবনুর


















