চট্টগ্রাম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্ব ট্রমা দিবস আজ

বিশ্ব ট্রমা দিবস আজ

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মন দিলে ট্রমার হার নামবে অর্ধেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সর্বশেষ (মে ২০২৩ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৪) এক জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ৬৬ জন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। সে হিসেবে বছরে প্রাণ হারান ২৪ সহস্রাধিক মানুষ। একই সময়ের দুর্ঘটনায় ২০ লাখেরও বেশি লোক আহত হন। তাদের মধ্যে ৩৮ হাজার স্থায়ী মানুষ স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে যান।

 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শুধুমাত্র সতর্কতামূলক উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ অর্থাৎ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মনযোগ বাড়ানো গেলে ট্রমায় আক্রান্তের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সড়ক সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসকরা। দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রমা সেন্টার খোলারও পরামর্শ এসেছে চিকিৎসকদের কাছ থেকে। 

 

 
চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার না করে ঢাকার টারশিয়ারি সকল হাসপাতালে ট্রমার পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া হলে এসব রোগীদের চিকিৎসা সংকট কেটে যাবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রমা সেন্টার খুলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া গেলে সুফল পাবেন রোগীরা।
 
 
ঢামেক হাসপাতালের প্রাক্তন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি ট্রমা রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে দুর্ঘটনা কমাতে হবে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার না করে চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান খুঁজলে হবে না। 
 
 
কারণ এ দিকটি অবহেলিত থাকায় রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে, কিন্তু হাসপাতাল বা চিকিৎসক সেই হারে বাড়ছে না। ফলে চিকিৎসা পেতে গিয়ে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় সড়ক সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় প্রচুর ব্যয় হলেও এর কল্যাণে দুর্ঘটনা কমানো যাবে। এতে শেষ পর্যন্ত আহতদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, যা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের সাশ্রয়েরই কারণ হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা রোগীর সংখ্যা কমানো যাবে।
 
 
নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক মনে করেন, রাস্তা অতিক্রম করতে জেব্রা ক্রসিং অনুসরণ করা হয় না। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে। দুর্ঘটনার জন্য অসচেতনতা অনেকাংশে দায়ী। কারণ পাঠ্যসূচিতে এ রকম জরুরি বিষয় স্থান পায়নি। সেখানে ডিম ভাজাসহ নানা হাস্যকর বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মানুষকে এ ব্যাপারে সম্যক ধারণা দিতে হবে।
 
 
বিশ্ব ট্রমা দিবস আজ: এমন পরিস্থিতিতে আজ বাংলাদেশে উদযাপিত হবে বিশ্ব ট্রমা দিবস। সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সচেতনতা তৈরিতে এ দিবসটি উদযাপন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- ট্রমা কেয়ারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।
 
পূর্বকোণ/নুসরাত
 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট