চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ, বাড়ছে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ, বাড়ছে তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৫:৫০ অপরাহ্ণ

হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হামলা বাড়ানোর মধ্যে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দামও বাড়ছে।

 

সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। পরে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে এটি ডুবে যায়। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটির সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

 

 

জাহাজটিতে পানি ঢোকার সময় কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। পরে ধারণ করা ভিডিও ও কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে পানিতে ছড়িয়ে থাকা পণ্য এবং তেলের পাতলা স্তর দেখা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির দাবি, অনুমোদনহীন পথে চলার সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে জাহাজটি ডুবে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা, চালকবিহীন আকাশযানের হামলায় জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

 

এদিকে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ নামের আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজও ডুবে গেছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাহাজটিতে প্রথম আঘাত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় একজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন।

 

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য বলছে, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে বহু জাহাজ হামলার শিকার হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে ডুবে যাওয়া জাহাজের মধ্যে এগুলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনা।

 

গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে হরমুজ প্রণালিতে বা এর আশপাশে অন্তত নয়টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি তেলবাহী জাহাজে চালকবিহীন আকাশযান দিয়ে হামলাও রয়েছে।

 

জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহনের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এই পরিমাণ এক-চতুর্থাংশেরও কম। অক্টোবরের শুরু থেকে প্রণালিটি দিয়ে সাত দিনের গড় তেল পরিবহনের পরিমাণও দ্রুত কমেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরানের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা চার্লি ব্রাউন বলেছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজটি ডুবে যাওয়া পরিস্থিতির বিপজ্জনক অবনতি নির্দেশ করে। ইরান সমুদ্রের মাইনের কথা বললেও তাঁর মতে, চালকবিহীন আকাশযানের হামলার সম্ভাবনাই বেশি।

 

তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কী করবে, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। তবে তার মতে, অন্য দেশগুলো কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। জাহাজ চলাচল, নাবিকদের নিরাপত্তা ও নৌপথে অবাধ চলাচলের ওপর এই হুমকি বিশ্ব কত দিন সহ্য করবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

 

ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রেখে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এতে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক সংকটে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাবও আগের তুলনায় কমেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ থেকে এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

 

এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাহারায় রাতে জাহাজ চলাচলের একটি বিশেষ ব্যবস্থাও ভূমিকা রেখেছে। এ ব্যবস্থায় তেলবাহী জাহাজগুলো শনাক্তকরণ সংকেত বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি পার হয়।

 

তেল পরিবহনের পরিমাণ বাড়তে থাকায় ইরান আবারও হামলা ও হুমকি বাড়িয়ে প্রণালিটির ওপর আগের প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে। জ্বালানির দাম, শুল্ক ও জীবনযাত্রার ব্যয় ইতিমধ্যেই মার্কিন ভোটারদের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠেছে।

 

জ্বালানির দাম কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন গত সপ্তাহে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটি থেকে সীমিত পরিমাণে ডিজেল আমদানির একটি চুক্তিও ঘোষণা করেছে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই সমালোচনা হয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি নাও আসতে পারে। বরং নভেম্বরের মধ্যে ডিজেলের দাম প্রায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। সূত্র: সিএনএন

পূর্বকোণ/আদর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট