চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশে গতকাল সোমবার উম্মে হাবিবা (২১) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজী চান মিয়া রোডের কালারপুল এলাকার কাসেম ভিলার তৃতীয় তলার বাসা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী মাহমুদুল হাসানসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় নিহতের স্বামী মাহমুদুল হাসান ও তার বোনকে আটক করার বিষয়টি জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।
নিহত উম্মে হাবিবা কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার রাজাখালী ইউনিয়নের নুরুল কবিরের মেয়ে। এছাড়া আটক মাহমুদুল হাসান (২৪), তাঁর বোন শাকিলা (২২) বাঁশখালীর বানীগ্রামের সাধনপুর এলাকার মোবারক হোসেনের সন্তান ।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১ নভেম্বর শ্বশুরবাড়ির লোকজন উম্মে হাবিবাকে তার পৈতৃক বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী থেকে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের পেছনে কালারপুল এলাকার একটি বাসায় নিয়ে আসেন। পরদিন ২ নভেম্বর রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তার বাবাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
নিহতের ভাই মো. ইদ্রিস রানার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক ও বিভিন্ন অজুহাতে ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। মৃত্যুর পর তার শরীর ও গলায় আঘাতের চিহ্নও দেখতে পেয়েছেন স্বজনেরা।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে উম্মে হাবিবার বিয়ে হয়। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী তার বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য উম্মে হাবিবার সব স্বর্ণালংকার নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির টাকা দেওয়ার জন্য উম্মে হাবিবাকে নিয়মিত চাপ দিতেন তার স্বামী। এ ছাড়া কোরবানির ঈদে বাবার বাড়ি থেকে ছাগল ও পর্যাপ্ত কাপড়চোপড় দেওয়া হয়নি এমন অজুহাতেও তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। একাধিকবার মারধরের শিকার হলেও সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তিনি বিষয়গুলো সহ্য করে আসছিলেন।
পূর্বকোণ/আরআর


















