চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভারতের বাজারে হলুদের দামে রেকর্ড, উত্তাপ খাতুনগঞ্জেও...

ভারতের বাজারে হলুদের দামে রেকর্ড, উত্তাপ খাতুনগঞ্জেও…

তাসনীম হাসান 

৩ নভেম্বর, ২০২৬ | ২:০৩ অপরাহ্ণ

শুকনা আস্ত হলুদের দাম দেশের বাজারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মাত্র ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে মসলাটির কেজিতে দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের পাইকারি ও ফিউচারস মার্কেটে হলুদের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশে হলুদের চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয় ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে। সম্প্রতি দেশটিতে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। এতে কমেছে আমদানি। আর সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারেও বাড়ছে হলুদের দাম।
 
 
ভারতের ন্যাশনাল কমোডিটি অ্যান্ড ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে হলুদের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ। শুধু গত ছয় মাসেই বেড়েছে ৬২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দেশটির প্রধান হলুদ উৎপাদনকারী অঞ্চল তামিলনাড়–র ইরোড ও মহারাষ্ট্রের নান্দেড় মান্ডিতে (পাইকারি বাজার) হলুদের দাম কুইন্টালপ্রতি (১০০ কেজি) ২২ হাজার থেকে ২৭ হাজার ভারতীয় রুপির মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ কয়েক মাস আগে, এপ্রিল-জুনে এই দাম ছিল কুইন্টালপ্রতি ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার ভারতীয় রুপির কাছাকাছি। সব মিলিয়ে এক বছরের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পানির সংকট, প্রতিকূল আবহাওয়াসহ নানা কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।
 
ভারত থেকে হলুদ আমদানি কমার চিত্রও উঠে এসেছে পরিসংখ্যানে। দেশে অধিকাংশ হলুদ আমদানি হয় সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মসলাটির আমদানি কমেছে ৩ হাজার ৫৩৫ টন। ভারতে সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্প্রতি শুকনা হলুদ আমদানি কমেছে বলে জানিয়েছেন বন্দরের ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা।
 
 
ভোমরা কাস্টম হাউসের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এ বন্দর দিয়ে ২ হাজার ৮২৪ টন শুকনা হলুদ আমদানি হয়েছে। এর আমদানি মূল্য ৫৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে ১০৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের ৬ হাজার ৩৫৯ টন হলুদ আমদানি হয়েছিল। 
 
 
গতকাল সোমবার খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে দেশি হলুদ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ২৫৫ টাকায়। কিছুদিন আগেও দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা। একইভাবে ভারত থেকে আমদানি করা হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩১৫ টাকায়। ২০ দিন আগেও এই হলুদের দাম ছিল ২১০ থেকে ২১৫ টাকা।
 
 
 
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজারের মেসার্স হাজি মোহাম্মদ ইসহাক সওদাগরের স্বত্বাধিকারী মো. সেকান্দর পূর্বকোণকে বলেন, ‘হলুদের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। ভারতে পণ্যটির দাম অনেক বেড়েছে, সেটির প্রভাব পড়েছে আমাদের বাজারেও। এখন অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বাড়াতে হবে।’ তিনি বলেন, গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এত বেশি দামে হলুদ বিক্রি করতে হয়েছে, এমনটা মনে পড়ে না।
 
শুধু হলুদ নয়, বাজারে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। মিষ্টি জিরা ১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২১০ টাকা, ধনিয়া ১২০-১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারের সবচেয়ে নিম্নমানের মরিচের দামও কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় পৌঁছেছে।
 
 
 
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হলুদসহ খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। মূলত বিদেশি বাজারে জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’
 
 
 
পাশাপাশি ব্যাংকগুলোতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে উচ্চ মার্জিন হার এবং আসন্ন রমজানের বাড়তি চাহিদার কারণেও বাজারে পণ্যের দাম চড়া রয়েছে বলে জানান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি ব্যাংকিং জটিলতা দূর করতে হবে।’
 
পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট