নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৩১৯ জন কর্মচারী নভেম্বর মাসের বেতন পাননি। এ ঘটনায় সোমবার সকালে কয়েকশ কর্মচারী বিক্ষোভ করেন। কর্মচারীরা বলেন, দেশের অন্যান্য বিমানবন্দরের কর্মচারীরা ১ নভেম্বর বেতন পেয়েছেন। কিন্তু তারা এখনো বেতন পাননি।
কর্মচারীরা এ বিলম্বের জন্য বিমানবন্দরের প্রশাসনিক শাখার দায়িত্বে থাকা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবহেলাকে দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, তিনি কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র সময়মতো ঢাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান কার্যালয়ে পাঠাননি।
আজ বেশ কয়েকজন কর্মচারী বিমানবন্দরের পরিচালকের কার্যালয় এবং কায়সার এম মোহাইমেনের কক্ষে গিয়ে জড়ো হন। তারা দ্রুত বেতন পরিশোধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেতন নির্ধারণের জন্য ৩১৯ জন কর্মচারীর চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ১৮ অক্টোবর হিসাব শাখা থেকে প্রশাসনিক শাখায় পাঠানো হয়। কর্মচারীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কাগজপত্র বেবিচকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়নি।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, বেতন না পাওয়ায় নিম্ন বেতনভুক্ত অনেক কর্মচারী সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সন্তানদের স্কুলের বেতন, চিকিৎসার খরচ এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ নূর হোসেন বলেন, ৩০০ জন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৯ জন আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাবেন। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রায় ৩১৯ জন কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ জনের বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৯ জনকে আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিরীক্ষা চলছে। আগামী ৫ নভেম্বর এই নিরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। এরপর বেতনসংক্রান্ত বাকি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।
অন্যদিকে, অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কায়সার এম মোহাইমেন। তিনি বলেন, যাচাই করা কাগজপত্র হাতে পাওয়ার এক দিনের মধ্যেই তিনি সেগুলো প্রধান কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি জানান, বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নিতে হিসাব কর্মকর্তা ইমরান চৌধুরী ঢাকায় গিয়েছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি ও যাচাই করা হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর সেগুলো তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গাপূজার ছুটি থাকায় ওই সময়ে কাগজপত্র পাঠানো সম্ভব হয়নি। ২৫ অক্টোবর তিন কর্মচারীকে চাকরিসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য ভ্রমণাদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকায় তারা যেতে পারেননি।
কায়সার এম মোহাইমেন বলেন, ‘২৭ অক্টোবর আরেকটি ভ্রমণাদেশ দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা নথিপত্র প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ৩১৯ জন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ করতে সময় লাগছে। তিনি আরও জানান, দেশের অন্য কয়েকটি বিমানবন্দরের মতো সবাইকে আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেবিচক। প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন নির্ধারণের কাজ কতটুকু সম্পন্ন হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে তাদের নতুন অথবা পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে।
কর্মচারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পূর্বকোণ/আরআর



















