চট্টগ্রাম শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভাইয়ের সাথে কথা বলো, ছেলেপুলে পাঠালে চাঁদা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি হয়ে যাবে

‘ভাইয়ের সাথে কথা বলো, ছেলেপুলে পাঠালে চাঁদা ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি হয়ে যাবে’

অনলাইন ডেস্ক

৩১ অক্টোবর, ২০২৬ | ৮:২৯ অপরাহ্ণ

‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। একটার মধ্যে যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে? একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ, ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’ 
 
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায় চাঁদা না পেলে লোক পাঠিয়ে হামলার হুমকি দিয়ে এভাবেই এক ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করেছেন সাব্বির হোসেন ওরফে সানি। শুক্রবার রাতে নারায়াণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
 
চাঁদার জন্য হুমকি দেওয়া এই ব্যক্তির নাম সাব্বির হোসেন ওরফে সানি। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগে বসবাস করে আসছেন।
 
পুলিশ জানায়, গত আগস্টে হামজারবাগের বাসিন্দা প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করে চাঁদা দাবি করেন সাব্বির। শওকতও একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। ফোনে তাকে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে সাব্বির বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তার সঙ্গে কথা বলো। তার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো। যদি ক্লিয়ার না করো, তবে ফ্যামিলির যেকোনো একজনের শরীর প্রথমে বোলতার বাসা বানিয়ে খেলা শুরু হবে। এরপর আস্তে আস্তে তোমার দিকে আসবে। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’
 
পুলিশ জানায়, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। চাঁদার জন্য হুমকির ঘটনার পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলিও করা হয়। এরপর থেকে সাব্বিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছিল। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
 
এ ব্যাপারে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন সাব্বির। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদের পাশাপাশি তার সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশনায় মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করতেন সাব্বির।’
 
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সাব্বির প্রকাশ্যে কম আসতেন। তার কাজ ছিল সাজ্জাদ ও বোরহানের নির্দেশনা অনুযায়ী ফোন করে চাঁদা দাবি করা। যেসব ব্যবসায়ী বা শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাদের বিষয়ে আগেই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো। বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করতেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এরপর সাব্বির ফোন করে চাঁদা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলির হুমকি দিতেন। হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটাতেন।’
 
মাসুদ আলম বলেন, ‘গ্রেফতার সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে। তিনি চাঁদা দাবি করলেও ভয়ে বেশির ভাগ ভুক্তভোগী মামলা করেননি।’
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে সাব্বিরকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে তাক করে ফাঁকা গুলি ছুড়ছেন টি-শার্ট পরা সাব্বির। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিস্তল উঁচিয়ে আবার গুলি করতে দেখা যায় তাঁকে।
 
পূর্বকোণ/মিফতা/পারভেজ
 
 
 
 
 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট