চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী ও জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। কারাগারে থাকা অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদীর আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধামকে জানান, আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শরীফকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং বর্তমানে জেলা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার আসামি চিন্ময় দাসকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আদালতে সরাসরি হাজির না করে ভার্চুয়ালি যুক্ত করা হয়। চিন্ময় দাসের পক্ষে তার আইনজীবী জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত তিনজন সাক্ষীকে তিনি জেরা করেননি। অন্য আসামিদের পক্ষে তাঁদের নিয়োজিত আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। এ ছাড়া মামলার আসামি রাজীব ভট্টাচার্য নিজেই আইনজীবীর সহায়তা না নিয়ে সাক্ষীকে জেরা করার কথা আদালতকে জানান। এর আগে তিনি নিজেই আরও দুই সাক্ষীকে জেরা করেছিলেন। মামলার পরবর্তী দিন আগামী ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত। ৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ বছরের ২৫ আগস্ট চিন্ময় কৃষ্ণসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার শুরু করে আদালত।
পূর্বকোণ/নুসরাত


















