চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

১০ শতাংশ ছাড়েও শাহ আমানত সেতুতে ই-টোলে সাড়া কম

১০ শতাংশ ছাড়েও শাহ আমানত সেতুতে ই-টোলে সাড়া কম

নাজিম মুহাম্মদ

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ | ২:২৬ অপরাহ্ণ

টোল প্লাজায় যানজট কমানো, সময় বাঁচানো এবং রাজস্ব আদায়ে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নগরের তৃতীয় কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতুতে চালু করা হয়েছে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) বা ই-টোল পদ্ধতি। ২০২১ সালের মে মাসে সীমিত পরিসরে এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে এই ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়। এই পদ্ধতিতে টোল পরিশোধে ১০ শতাংশ ছাড় এবং নগদ টাকা ছাড়াই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে সেতু পারাপারের সুবিধা থাকলেও যানবাহনের চালক ও মালিকদের কাছ থেকে আধুনিক এই প্রযুক্তিতে আশানুরূপ সাড়া মিলছে না।

 

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ছাড়াও পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও বান্দরবানের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম শাহ আমানত সেতু। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২২ থেকে ২৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে। সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবারসহ পর্যটন মৌসুমে যানবাহনের এই চাপ আরও বেড়ে যায়। সেতুটির ই-টোল সিস্টেম ও কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসের আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজারের বেশি যানবাহন নিবন্ধিত হলেও প্রতিদিন গড়ে মাত্র এক হাজার গাড়ি ইটিসি পদ্ধতিতে টোল পরিশোধ করছে। যা মোট চলাচলকারী যানবাহনের তুলনায় অত্যন্ত কম। অথচ ইটিসিতে টোল আদায় হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পুরো টাকা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হয়, পারাপারে সময় কম লাগে এবং সেতু এলাকায় কোনো যানজটও তৈরি হয় না। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগযুক্ত যেকোনো যানবাহন সহজেই এই সেবার আওতায় নিবন্ধিত হতে পারে। সেতুর টোল প্লাজায় স্থাপিত বিশেষ অ্যান্টেনা গাড়ির উইন্ডশিল্ডে থাকা আরএফআইডি স্টিকার ও ডিজিটাল নম্বর প্লেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে এবং নির্দিষ্ট হিসাব থেকে টোলের টাকা কেটে নেয়। এতে টোল প্লাজায় গাড়ি থামিয়ে নগদ টাকা লেনদেন বা ভাংতির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

 

যানবাহনের মালিক ও চালকরা চাইলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ, রকেট, উপায়, ই-টোল অ্যাপ কিংবা ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল) ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) কার্ড ব্যবহার করে সহজেই ই-টোল পরিশোধ করতে পারেন। এছাড়া ইটিসি ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে নির্ধারিত টোলের ওপর ১০ শতাংশ টাকা কম নেওয়া হয়। এত সব সুবিধা থাকার পরও প্রচারণার অভাব, নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি এবং চালকদের অনীহার কারণে ই-টোলে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, সিংহভাগ গাড়ি ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নগদ টাকায় টোল দেওয়ায় প্রতিদিনই টোল পয়েন্ট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের অনেকের অভিযোগ, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যানবাহনের টোল নিলে আদায়কৃত পুরো টাকা সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হয় না।

 

ই-টোলে যানবাহনের কম সাড়া এবং ম্যানুয়াল পদ্ধতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম জানান, শাহ আমানত সেতু দিয়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ২৭ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে ইটিসি পদ্ধতিতে টোল আদায় হয় গড়ে এক হাজার গাড়ির। তবে কর্ণফুলী টানেল চালু হবার পর থেকে যানবাহন কিছুটা কমেছে। ইটিসিতে টোল আদায়ের ব্যাপারে প্রচারণা চালাতে বিকাশ, রকেট, উপায়, ইবিএল ও এমটিবিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠকও করেছে।

 

ম্যানুয়ালি টোলের টাকা নয়-ছয় হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সওজের এই কর্মকর্তা বলেন, কথাটি মোটেও সত্য নয়। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি টোল পয়েন্ট এলাকায় অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিডার ক্যামেরা রয়েছে। অর্থাৎ টোল পয়েন্ট এলাকায় স্বয়ংক্রিয় যে ক্যামেরাগুলো রয়েছে, সেগুলো টোল পয়েন্ট পার হওয়া প্রত্যেকটি গাড়ির নম্বর প্লেট রিড করে। সওজের বিভাগীয় অফিস থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত একাধিক স্থানে এই ক্যামেরা দেখার অ্যাক্সেস রয়েছে। কী পরিমাণ গাড়ি যাচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট হিসাবও থাকে। ফলে এখানে টোলের টাকা নিয়ে নয়-ছয় করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, যানজটমুক্ত ও আধুনিক মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের প্রধান সেতুগুলোতে ইটিসি পদ্ধতি চালু করেছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু ছাড়াও বর্তমানে দেশের আরও বেশ কয়েকটি সেতু ও মহাসড়কে ই-টোল সুবিধা চালু রয়েছে।

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট