চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ঈদের আগে চট্টগ্রামের ১শ ইউপিতে নির্বাচনের টার্গেট 

ঈদের আগে চট্টগ্রামের ১শ ইউপিতে নির্বাচনের টার্গেট 

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

২৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ২:৪০ অপরাহ্ণ

আগামী বছরের জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাঁচ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে কমিশন। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই ধাপে চট্টগ্রামে ১০০ ইউনিয়নে নির্বাচন করতে চায় ইসি। এই লক্ষ্যে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।
 
চট্টগ্রাম জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা পূর্বকোণকে বলেন, প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি ও দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এই দুই ধাপে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ১০০ ইউনিয়নে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে কৌশলগত কারণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 
 
এই তিন কর্মকর্তা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা হালনাগাদ, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশন থেকে যখনই যে নির্দেশনা আসবে, তা প্রতিপালন করা হবে। 
 
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলায় ১৯১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এরমধ্যে ১৮৯টি ইউনিয়ন নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে। দুটিতে জটিলতা রয়েছে। এরমধ্যে বোয়ালখালীর পশ্চিম গোমদÐীর ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করে আলাদা ইউনিয়নের প্রস্তাবনা রয়েছে। আর স›দ্বীপের উড়িরচরের সীমানা বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। এসব কারণে এই দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন করার পরিবেশ আপতত নেই।
 
এদিকে, সরকারি দল বিএনপি ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে তথ্য ফরম সংগ্রহ করেছে। উত্তরের বিভিন্ন উপজেলায়ও প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 
 
প্রস্তুত ভোটার তালিকা:
 
চট্টগ্রামে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লক্ষ্যে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন। জেলার ১৬ উপজেলায় ১৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের উপযোগী রয়েছে। এসব ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৬৯ জন। ভোটকেন্দ্র হচ্ছে ১ হাজার ৭৮১টি এবং ভোটকক্ষ হচ্ছে ৮ হাজার ১৫৩টি।
 
চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমদ বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যখন যে নির্দেশনা দেবে, সেভাবে আমরা কাজ শুরু করবো।’
 
জোড়াতালি দিয়ে চলছে ইউপি কার্যক্রম:
 
চট্টগ্রামের উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি ছিলেন রাজনৈতিক (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেশিরভাগই আত্মগোপনে চলে যায়। অনেকেই গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়। এতে বেশিরভাগ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এতে জনসেবা অনেকটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
 
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। ক্ষমতাসীন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে-ঘাটে জোরালো প্রচার শুরু করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রার্থিতার ঘোষণা দেন।
 
দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় বড় পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে যান মণ্ডপে মণ্ডপে।
 
একক প্রার্থিতার নির্দেশ বিএনপির:
 
গত ২০ অক্টোবর ও ৯ আগস্ট দুই দফায় চট্টগ্রাম সফর করে গেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুবারই তিনি চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক ইউনিট (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা) বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘একক প্রার্থী’ ঠিক করার নির্দেশনা -এবং দল-সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয়প্রধান তারেক রহমান।
 
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। হয়নি। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসার আগেই বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা মাঠে নেমে পড়েছেন।
 
মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব জায়গায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কেউ কেউ এলাকায় জনসংযোগও শুরু করেছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে তিন-চারজন বা তারও বেশি নেতা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করা বিএনপির সামনে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
 
পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট