চট্টগ্রাম বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাকির হোসেন সড়কের চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের সামনে তোলা ছবি।

নগরীর জাকির হোসেন সড়ক

সরছে না ব্যানার-পোস্টার, চসিকের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০:০৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর জাকির হোসেন সড়ককে ব্যানার-পোস্টারমুক্ত মডেল সড়ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ঝুলন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পরও সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী রয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে লার্নআপ একাডেমির আলী স্যার, হাবিব একাডেমি, মিজান’স কমার্স কেয়ারের মিজান স্যার, ফ্লোরেন্স, ইবিআই পয়েন্ট, গণিতের মেহেদী স্যার এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ল’ কলেজের ব্যানার ও প্রচারসামগ্রী দেখা গেছে। এতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগের মাঠপর্যায়ের তদারকি ও নিয়মিত অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে জাকির হোসেন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝুলন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ না করার বিষয়টি নিয়ে পূর্বকোণে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর চসিকের উদ্যোগে সড়কের একাংশ থেকে প্রচারসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হলেও অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকটি ব্যানার পুনরায় টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়। এ নিয়ে ‘চসিকের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি লার্নআপ ও হাবিব একাডেমির!’ এবং ‘প্রতি রাতেই বাড়ছে ব্যানার-পোস্টার, চসিকের তদারকি কোথায়?’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়েও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।

 

একই সড়কে এত ব্যানার, তদারকি কোথায়?

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারের প্রচারসামগ্রী ঝুলতে দেখা গেলেও সেগুলো অপসারণে নিয়মিত কার্যক্রম কতটা চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশের পরও এসব প্রচারসামগ্রী থেকে যাওয়ায় চসিকের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

তাঁরা নিয়মিত সড়ক পরিদর্শন করেন কি না, অননুমোদিত ব্যানার-পোস্টার চিহ্নিত হলে কী ব্যবস্থা নেন এবং অপসারণের পর একই স্থানে আবার প্রচারসামগ্রী টাঙানো ঠেকাতে কী ধরনের নজরদারি রয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর চান নগরবাসী।

একই সড়কে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যানার-পোস্টার দৃশ্যমান থাকার পরও সেগুলো অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ না দেখা গেলে স্বাভাবিকভাবেই তদারকির ধারাবাহিকতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা হলেও অন্যগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

বিশেষ প্রভাব, নাকি দায়িত্ব পালনে ঘাটতি?

জাকির হোসেন সড়কে একাধিক প্রতিষ্ঠানের ব্যানার-পোস্টার রয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, এগুলো অপসারণে বিলম্বের কারণ কী। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, কিংবা মাঠপর্যায়ের তদারকিতে ঘাটতি আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের কেউ কোনো চাপের মুখে রয়েছেন কি না, অথবা নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য হচ্ছে কি না, সেটিও যাচাই করা যেতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ, আর্থিক লেনদেন কিংবা প্রভাব বিস্তারের কোন বিষয় জড়িত কিনা সেটাও জানা দরকার।

এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়মিত পরিদর্শনের রেকর্ড, প্রচারসামগ্রী অপসারণের নির্দেশ এবং তা বাস্তবায়নের তথ্য পর্যালোচনা করলে তদারকির কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

 

 

 

ব্যাহত হচ্ছে মডেল সড়কের উদ্যোগ

জাকির হোসেন সড়ককে ব্যানার-পোস্টারমুক্ত মডেল সড়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এককালীন অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অপসারণ এবং পুনরায় একই স্থানে প্রচারসামগ্রী টাঙানো প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী থেকে গেলে নগরীর সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের স্থায়ী সুফলও পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে নিয়ম প্রয়োগে ধারাবাহিকতা না থাকলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ এবং অনুমোদনহীন প্রচারসামগ্রী অপসারণে স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

চসিকের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা

জাকির হোসেন সড়কে দৃশ্যমান ব্যানার-পোস্টারগুলোর অনুমোদন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের তদারকি কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি অপসারণ করা প্রচারসামগ্রী পুনরায় টাঙানো হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নগরবাসী।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। জাকির হোসেন সড়ককে সত্যিকার অর্থে ব্যানার-পোস্টারমুক্ত মডেল সড়ক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে চসিকের নিয়মিত তদারকি, সমানভাবে বিধি প্রয়োগ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, সরেজমিনে চিহ্নিত এসব প্রচারসামগ্রী অপসারণে চসিক কী পদক্ষেপ নেয়।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট