চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

চট্টগ্রামের ক্যান্সার সেবার চিত্র বদলে দিতে চাই

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের কাজের সুযোগ করে দিন

প্রফেসর ডা. খন্দকার এ কে আজাদ

২০ অক্টোবর, ২০২৬ | ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে একটি বিশ্বমানের অলাভজনক ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার অব এক্সিলেন্স গড়ে তোলার কথা আমরা শুধু বলছি না- আমরা কাজের প্রস্তুতি নিয়েছি।
আমাদের রয়েছে দক্ষ অনকোলজিস্ট ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ দল, আধুনিক ও রোবোটিক অনকোলজিক সার্জারিতে প্রশিক্ষিত জনবল এবং একটি অপারেশনাল পলিসি ও ক্যান্সার কেয়ার ইকোসিস্টেমের রূপরেখা। দেশে-বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরাও তাঁদের জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে এই উদ্যোগে যুক্ত হতে আগ্রহী।
আমাদের বিশ্বাস- ক্যান্সার চিকিৎসা শুধু একটি মেশিন বা ভবন নয়। ক্যান্সার কেয়ার এক্সিলেন্স গড়ে ওঠে রোগের ঝুঁকি কমানো থেকে চিকিৎসা ও চিকিৎসা-পরবর্তী জীবন পর্যন্ত একটি নিরবচ্ছিন্ন, সমন্বিত ও মানবিক ক্যান্সার কেয়ার ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে।

 

যে নীতি ও অঙ্গীকারে গড়ে উঠবে এই কেন্দ্র
১. অলাভজনক ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার অব এক্সিলেন্স
২. দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের জন্য ক্রস-সাবসিডি ব্যবস্থা
৩. ‘নো পেশেন্ট লেফট বিহাইন্ড’ তহবিল ও আর্থিক সহায়তা
৪. স্বল্প খরচে হাসপাতাল-সংলগ্ন রোগী ও স্বজনদের আবাসনের ব্যবস্থা
৫. প্রশিক্ষিত হোম কেয়ারগিভার সেবা
৬. উদ্বৃত্ত অর্থ রোগীর সেবা, চিকিৎসার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় পুনর্বিনিয়োগ
৭. নিজের পকেট থেকে চিকিৎসায় ব্যয়ের হার কমবে
আমাদের চিকিৎসাদর্শন
এক রোগী, এক মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম, এক সমন্বিত চিকিৎসা পরিকল্পনা

 

আমাদের সাফল্যের মাপকাঠি
সাফল্যের প্রকৃত মানদ- হবে- কতজন রোগী সঠিক সময়ে সঠিক ও সমন্বিত চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারলেন, আর কতজন অর্থের অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হলেন বা পুরো চিকিৎসা সম্পন্ন করতে পারলেন না।

 

সুফল শুধু চট্টগ্রামের নয়
চট্টগ্রামে এমন কেন্দ্র গড়ে উঠলে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রোগীদের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আর ঢাকামুখী হতে হবে না। ঢাকার ওপর চাপ কমবে। দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসার ওপর আস্থা বাড়লে বিদেশমুখী ক্যান্সার চিকিৎসার প্রবণতাও কমবে।

 

চট্টগ্রাম প্রস্তুত- প্রয়োজন কাজ করার সুযোগ
আমরা শুধু একটি ক্যান্সার হাসপাতাল গড়তে চাই না- আমরা একটি ক্যান্সার কেয়ার ইকোসিস্টেম গড়তে চাই। সরকারের নীতিগত সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমাদের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠবে একটি বিশ্বমানের ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার অব এক্সিলেন্স।
আমাদের দক্ষতা আছে। আমাদের মানুষ আছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নেটওয়ার্ক আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আছে নিষ্ঠা ও অঙ্গীকার।

 

প্রয়োজন একটি সুযোগ, একটি সিদ্ধান্ত, একটি সূচনা
বাংলাদেশে চিকিৎসায় রোগীর নিজের পকেট থেকে ব্যয়ের হার দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ; মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি রোগীকেই নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। যা ক্যান্সারের মতো ব্যয়বহুল রোগে পরিবারকে আর্থিক বিপর্যয়ে ফেলছে। তাই প্রয়োজন অলাভজনক, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত ক্যান্সার সেবার একটি কার্যকর মডেল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের আবেদন, আমাদের কাজের সুযোগ করে দিন। চট্টগ্রামের ক্যান্সার সেবার চিত্র আমরা বদলে দেব। আমরা কার্যকর ফলাফল দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সেই মডেলটি গড়ে তোলার সুযোগ করে দিন।

 

ডা. খন্দকার এ কে আজাদ
চেয়ারম্যান, পোস্টগ্র্যাজুয়েট সার্জারি একাডেমিয়া

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট