চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান সংকট কাটাতে একটি তদন্ত বা পরামর্শক কমিটি গঠন করতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠিতে ইউজিসিকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সংকটের কারণ বিস্তারিত খতিয়ে দেখে সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সংকট সমাধানে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে।
সংকটের সূত্রপাত
গত ২১ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে বদলি করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলে অসন্তোষ শুরু হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন পালন করে আসছেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। ফলে ক্লাস, পরীক্ষাসহ বেশির ভাগ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
১২ অক্টোবর সকাল ৯টায় নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসেন এবং ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে ৯টা ৩০ মিনিটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন এবং দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে দপ্তর ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে তাঁরা ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এতে উপাচার্যসহ ভেতরে থাকা ১১ জন আটকা পড়েন।
পরদিন উপাচার্য অসুস্থবোধ করলে দুজন চিকিৎসক তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করতে যান। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর সবাইকে উদ্ধার করা হয় এবং উপাচার্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে ১৬ অক্টোবর তিনি নগরের সার্কিট হাউসে সিন্ডিকেট সভা ডাকেন। অনলাইনে হওয়া ওই সভায় ১৭ সদস্যের মধ্যে মাত্র ছয়জন অংশ নেন। জানা গেছে, সভায় চুয়েটের কোনো শিক্ষক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ


















