চট্টগ্রাম রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্রতি রাতেই বাড়ছে ব্যানার-পোস্টার, চসিকের তদারকি কোথায়?

অনলাইন ডেস্ক

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ২:৩৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর জাকির হোসেন সড়কে ঝুলন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিদিন, বিশেষ করে রাতের আঁধারে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাড়ছে ঝুলন্ত প্রচারসামগ্রী। লার্নআপ একাডেমি ও হাবিব একাডেমির ব্যানার পুনরায় টাঙানোর বিষয়টি নিয়ে পূর্বকোণ অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এতে নগরীর পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় চসিকের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী।

এর আগে জাকির হোসেন সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ না করার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে চসিকের উদ্যোগে সড়কের একাংশ থেকে প্রচারসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগের স্থায়িত্ব ছিল খুবই কম। এক রাত না পেরোতেই লার্নআপ একাডেমির আলী স্যার ও হাবিব একাডেমির ব্যানার পুনরায় টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়। এ নিয়ে পূর্বকোণ অনলাইনে ‘চসিকের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি লার্নআপ ও হাবিব একাডেমির!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ব্যানার-পোস্টার টাঙানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

মাঠপর্যায়ে তদারকি করেন কারা?

নগরীর পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং সড়কে ঝুলে থাকা অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণের দায়িত্ব চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের নিয়মিত তদারকির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জাকির হোসেন সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তাঁদের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নগরবাসী।

তাঁদের প্রশ্ন, চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজাররা কি নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেন? জাকির হোসেন সড়কসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিন কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা কি তাঁদের নজরে আসে না? সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝুলন্ত ব্যানার-পোস্টার বাড়তে থাকলেও সেগুলো অপসারণে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

নগরবাসীর মতে, নিয়মিত তদারকি থাকলে কোনো সড়কে দিনের পর দিন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ঝুলে থাকার কথা নয়। আবার অপসারণের পর একই স্থানে নতুন করে প্রচারসামগ্রী টাঙানো হলে তা শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে যদি সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িকভাবে প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা হয় এবং পরদিন থেকেই আবার সেগুলো বাড়তে থাকে, তাহলে নিয়মিত নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

 

 

অভিযান কি শুধু সংবাদ প্রকাশের পর?

নগরীর সড়কগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অনুমোদনহীন প্রচারসামগ্রী অপসারণে বিচ্ছিন্ন অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন ধারাবাহিক তদারকি, নিয়মিত পরিদর্শন এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। অন্যথায়, একবার ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলার পর আবারও সেগুলো টাঙানো হবে, আর একই সমস্যা বারবার সামনে আসবে।

জাকির হোসেন সড়কের ঘটনাটি সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। সংবাদ প্রকাশের পর চসিক প্রচারসামগ্রী অপসারণ করলেও পরবর্তী সময়ে সেগুলো পুনরায় টাঙানো ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? নতুন করে ব্যানার-পোস্টার টাঙানোর বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ কী পদক্ষেপ নিয়েছে? মাঠপর্যায়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের কার্যক্রম কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?

এসব প্রশ্নের জবাব ও কার্যকর পদক্ষেপ চান নগরবাসী। তাঁদের মতে, শুধু প্রচারসামগ্রী অপসারণ নয়, পুনরায় যাতে কেউ একই স্থানে ব্যানার-পোস্টার টাঙাতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

প্রতিদিন বাড়ছে প্রচারসামগ্রী, দায়িত্ব নেবে কে?

জাকির হোসেন সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যানার-পোস্টার বাড়তে থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকার অভিযোগ চসিকের মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। নগরীর অন্যান্য সড়কেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে কি না, নিয়মিত তদারকির আওতায় সেসব এলাকা কতটা আসছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, চসিকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখবে। পরিচ্ছন্ন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যালোচনার পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে ব্যানার-পোস্টার টাঙানোর প্রবণতা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষার দায়িত্ব কেবল কোনো সংবাদ প্রকাশের পর অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এ জন্য প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি। এখন নগরবাসীর প্রশ্ন—জাকির হোসেন সড়কসহ নগরীর অন্যান্য সড়কে চসিকের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি আসলেই নিয়মিত তদারকি করছেন, নাকি দায়িত্ব পালনে ঘাটতির কারণেই প্রতিদিন বাড়ছে ব্যানার-পোস্টার?

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট