চট্টগ্রাম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চসিকের অভিযানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি লার্নআপ ও হাবিব একাডেমির!

অনলাইন ডেস্ক

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ১:৩৮ অপরাহ্ণ

নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম জাকির হোসেন সড়কে ঝুলন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগের পরও ফের একই স্থানে লার্নআপ একাডেমি ও হাবিব একাডেমি নামের দুটি কোচিং সেন্টারের ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সড়কের ঝুলন্ত প্রচারসামগ্রী নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর চসিকের পক্ষ থেকে ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলা হলেও এক রাত না পেরোতেই পুনরায় ব্যানার টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়। এতে নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা ও অবৈধ প্রচারসামগ্রী অপসারণে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

এর আগে জাকির হোসেন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ঝুলন্ত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার দীর্ঘদিন ধরে অপসারণ না করার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরপরই চসিকের উদ্যোগে সড়কের ঝুলন্ত প্রচারসামগ্রী অপসারণ করা হয়। তবে সেই উদ্যোগের সুফল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাত না পেরোতেই লার্নআপ একাডেমির আলী স্যার ও হাবিব একাডেমির ব্যানার পুনরায় টাঙানো অবস্থায় দেখা যায়।

 

 

এভাবে ব্যানার টাঙানোর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ ও আশপাশের পরিবেশও প্রচারসামগ্রীতে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ছে। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় সিটি করপোরেশনের অভিযান চলার পরও একই ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরায় ঘটায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে অপসারণ করা ব্যানার-পোস্টার আবার টাঙানো ঠেকাতে চসিকের নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

 

জাকির হোসেন সড়কে ব্যানার-পোস্টার অপসারণ এবং পুনরায় টাঙানোর ঘটনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। নগরীর বিভিন্ন সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখা এবং অবৈধভাবে ঝুলিয়ে রাখা প্রচারসামগ্রী অপসারণে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজাররা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করেন কি না, তা জানতে চান নগরবাসী।

 

 

জাকির হোসেন সড়কসহ নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় কি না, পরিদর্শনে অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার চিহ্নিত হলে সেগুলো অপসারণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। নিয়মিত তদারকি থাকলে সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রচারসামগ্রী কেন অপসারণ করা হয় না, আর অপসারণের পর একই স্থানে পুনরায় ব্যানার টাঙানো ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তারও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

 

শুধু সংবাদ প্রকাশের পর কিংবা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অভিযান পরিচালনার সময় প্রচারসামগ্রী অপসারণ করাই যথেষ্ট নয়। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিয়মিত নজরদারি, অননুমোদিত ব্যানার-পোস্টার দ্রুত অপসারণ এবং পুনরায় একই অপরাধ সংঘটিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায়, বিচ্ছিন্ন অভিযান সাময়িকভাবে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনলেও দীর্ঘমেয়াদে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

 

নগরবাসীর প্রশ্ন, সংবাদ প্রকাশের পর ব্যানার-পোস্টার অপসারণ করা হলেও সেগুলো পুনরায় টাঙানো ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? শুধু প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেললেই কি দায়িত্ব শেষ, নাকি নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে?

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবৈধভাবে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙানোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দায়ীদের শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পুনরায় একই স্থানে প্রচারসামগ্রী টাঙানো হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সুপারভাইজারদের তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

 

জাকির হোসেন সড়কে পুনরায় ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় লার্নআপ একাডেমি ও হাবিব একাডেমির সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা, অপসারণ করা প্রচারসামগ্রী পুনরায় টাঙানো প্রতিরোধ এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

 

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় চসিকের অভিযান যেন কেবল সংবাদ প্রকাশের পর সাময়িক তৎপরতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হয়—এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর। এখন প্রশ্ন, জাকির হোসেন সড়কসহ নগরীর অন্যান্য সড়কে পরিচ্ছন্ন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর, এবং পুনরায় ব্যানার-পোস্টার টাঙানোর প্রবণতা বন্ধে চসিক কী পদক্ষেপ নেয়?

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট