চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জে নেওয়ার পথে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের আমদানি করা কাপড় উধাও হওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। গ্রেপ্তাররা ব্যক্তিরা হলেন- মোহাম্মদ গোলাম রহমান মুন্না (৪৬) ও মোহাম্মদ আমানুল্লাহ (৬৩)।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার বড়পুল এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাইশা এন্টারপ্রাইজ, শাহরিয়ার অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহনের কাজ করে। গত ৮ অক্টোবর বিকেল ৫টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির চালক মো. ইয়াসিন একটি মালবাহী গাড়িতে ১৯৭ রোল আমদানি করা কাপড় নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডের উদ্দেশে রওনা দেন। কাপড়গুলো একটি গার্মেন্টস কোম্পানির জন্য পাঠানো হচ্ছিল। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা।
ওই দিন রাত ১১টার দিকে গাড়িটির অবস্থান যাত্রাবাড়ী এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে গাড়িটি তেজগাঁও এলাকায় রয়েছে বলে জানতে পারে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে গাড়িটি ঢাকার দিকে চলে যাওয়ায় সন্দেহ হয় তাদের। চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গাড়ির বৈদ্যুতিক তারে সমস্যার কথা জানান। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজির পর গত ১২ অক্টোবর দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার মাছিমপুর এলাকার কামারপাড়া-স্টেশন রোডে একটি প্রতিষ্ঠানের ফটকের পাশে গাড়িটি খুঁজে পায় পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠানটি। তবে তখন গাড়িতে কোনো মালামাল ছিল না।
এ ঘটনায় ‘মাইশা এন্টারপ্রাইজ, শাহরিয়ার অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড’-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে ১৩ অক্টোবর টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গাড়ির চালক ইয়াসিনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজন মিলে কাপড়গুলো বিক্রি করে দেন।
এসআরবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার আসামি মুন্না ও আমানুল্লাহ চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বড়পুল এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হালিশহর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পূর্বকোণ/পারভেজ


















