চট্টগ্রাম বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

এক মেলাতেই ৩২৩ জনের নিয়োগ

বিসিক জব এন্ড ক্যারিয়ার ফেয়ারে চাকরিপ্রত্যাশীদের ভিড়

এক মেলাতেই ৩২৩ জনের নিয়োগ

তাসনীম হাসা

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

সকাল থেকেই চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। কারও হাতে জীবনবৃত্তান্ত, কারও চোখে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। কেউ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছেন, কেউ পড়াশোনা শেষ করে খুঁজছেন প্রথম চাকরি। নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, নিজের যোগ্যতা তুলে ধরা আর একটি কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছেন হাজারো তরুণ-তরুণী। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) আয়োজনে ‘বিসিক জব এন্ড ক্যারিয়ার ফেয়ার-২০২৬’-এ দেখা গেছে এমন চিত্র। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ মেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ২০০টি শূন্য পদের বিপরীতে জমা পড়ে ৩ হাজার ১৪৭টি জীবনবৃত্তান্ত ও চাকরির আবেদন। এর মধ্যে তাৎক্ষণিক নিয়োগ পেয়েছেন ৩২৩ জন। বিসিক আঞ্চলিক কার্যালয়, চট্টগ্রামের সহকারী নিয়ন্ত্রক (হিসাব ও অর্থ) রূপংকার নাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

মেলায় এসে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। অনলাইনে আবেদন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বদলে এখানে চাকরির ধরন জানা, নিজের দক্ষতা তুলে ধরা এবং জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা।

বাঁশখালীর পুইছড়ির বাসিন্দা সৈকত দে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে এসেছিলেন মেলায়। তিনি বলেন, ‘অনেক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেও সাড়া পাওয়া কঠিন। এখানে একসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। কোথায় কী ধরনের লোক নেওয়া হচ্ছে, তা সরাসরি জানতে পেরেছি। অন্তত নিজের জীবনবৃত্তান্তটি যথাযথ জায়গায় পৌঁছানোর সুযোগ হয়েছে।’ চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কর্মজীবনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও ছিল মেলায়। জীবনবৃত্তান্ত

 

তৈরি, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও কর্মজীবনের পরিকল্পনা নিয়ে পরামর্শ দিতে রাখা হয়েছিল বিশেষ পরামর্শকেন্দ্র।
বিসিক চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ফেনী ও নোয়াখালীর ছয়টি শিল্পনগরীর বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কালুরঘাট শিল্পনগরীর ১৫টি, ফৌজদারহাটের ১১টি, পটিয়ার ৬টি ও ষোলশহরের ৫টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও কুমিল্লা ও সিলেটের খাদিমনগর থেকে দুটি করে এবং ফেনীর চাড়ীপুর ও নোয়াখালী শিল্পনগরী থেকে একটি করে প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ ছিল ৪৩টি স্টল। অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল বস্ত্র, খাদ্য, ওষুধ, প্যাকেজিং, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

নগরের কোতোয়ালী থেকে আসা গিয়াস উদ্দিন গ্রেস এক্সেসরিস লিমিটেডে মানবসম্পদ ও প্রশাসন পদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত জমা দেন। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক সাক্ষাৎকার দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে অফিসে ডাকা হবে বলে জানানো হয়েছে।’

অন্যদিকে, লুব রেফ বাংলাদেশে সাপ্লাই চেইন অফিসার পদে তাৎক্ষণিক নিয়োগ পেয়েছেন তারেকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জীবনবৃত্তান্ত ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’

একই গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সাজিনাস এক্সিম প্যাক্ট লিমিটেড ও সাজিনাস হসপিটালের ২০টি পদের বিপরীতে জমা পড়ে ১০৩টি জীবনবৃত্তান্ত। সাজিনাস এক্সিম প্যাক্ট লিমিলেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক আরাফত হোসাইন পূর্বকোণকে বলেন, ‘একজন নির্বাহী ও দুজন কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। জমা পড়া অন্য জীবনবৃত্তান্তগুলো পর্যালোচনা করে বাকি পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া হবে।’
কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত নাফিসা এ্যাপায়েরলস লিমিটেড নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা প্রদীপ বড়–য়া ও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানে ৬ পদে নিয়োদ দেওয়া হবে। এসব পদের বিপরীতে ২৬টি জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের শিগগির সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হবে।
সকালে মেলার উদ্বোধন করেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বিসিক, ঢাকার পরিচালক (প্রশাসন) মুহম্মদ কামরুজ্জামান, উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) লুৎমিলা ফরিদ ও বিসিক, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালক (উপসচিব) খালেদ মাহমুদ।

 

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি, দক্ষ জনবল নিয়োগে সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই ছিল এ আয়োজনের লক্ষ্য। তবে চাকরির আশায় আসা সবার অভিজ্ঞতা এক রকম ছিল না। অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেকেই হতাশা নিয়ে ফিরেছেন।
তাদেরই একজন হালিশহরের বড়পোল থেকে আসা তরুণী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘সব পদেই অভিজ্ঞতা চাওয়া হচ্ছে। ভেবেছিলাম রিসেপশনিস্ট ও কাস্টমার সার্ভিসের মতো পদ থাকবে। কিন্তু সে রকম নিয়োগ দেখিনি। আশা নিয়ে এসেও হতাশা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।’

পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট