চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। তাঁর সাথে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা ও চুয়েট এর অ্যালমনাইসহ ১২ জনও অবরুদ্ধ রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।
চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরিফুল ইসলাম বলেন, গতকাল থেকে ভবনের পানি-বিদ্যুৎসহ সব ইউটিলিটি সার্ভিস বন্ধ। এখানে যারা আছেন, তাদের বেশিরভাগই অসুস্থ বোধ করছেন। অনেকের মোবাইল বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিদের মোবাইলও কিছুক্ষণ পর বন্ধ হয়ে যাবে।
শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি থাকলে তা আলোচনার টেবিলে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে। তবে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। আমি আশা করি, সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, দুইজন অ্যালামনাই সদস্যের প্রেশার হাই। ডাক্তার এসে দেখেছেন। যেহেতু আমরা বদ্ধ জায়গায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছি তারাও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ চাই। প্রশাসন আমাদের দাবির বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। আমরা চাই, আমাদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হোক এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেয়।
রাতে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ করে চলে গেলে ভবনের তালা খুলে দেওয়া হবে। আর তা না হলে আগের উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
এরপর রাত ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনে যান। সেখানে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবনটির পানি-বিদ্যুৎ পরিষেবা চালুর অনুরোধ করে ফিরে যান।
পূর্বকোণ/পিআর


















