চট্টগ্রাম নগরীর আকবরশাহ এলাকায় নন্দন হাউজিং সোসাইটি-সংলগ্ন সরকারি কালির ছড়া খালের একটি শাখা দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। খালের ওপর বাঁশ ও সিঁড়ির কাঠামো ব্যবহার করে অবৈধভাবে চলাচলের পথ নির্মাণের অভিযোগ করেছেন নন্দন হাউজিং সোসাইটির প্লট মালিক কল্যাণ পরিষদের নেতারা। তাঁদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চলতি বছরের ৮ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে আবেদন করেছিল সংগঠনটি। এরপর গত ১৩ মে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিচালকের কাছেও লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে পাননি তাঁরা।
খালের ওপর বাঁশের কাঠামো, দখলের শঙ্কা
নন্দন হাউজিং সোসাইটি প্লট মালিক কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর দেওয়া আবেদনে বলা হয়েছে, আকবরশাহ থানার অন্তর্গত নন্দন হাউজিং সোসাইটি একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা। এর চারপাশে সীমানাপ্রাচীর রয়েছে এবং অভ্যন্তরে সোসাইটির নিজস্ব মালিকানাধীন সড়ক রয়েছে। হাউজিং সোসাইটির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সরকারি কালির ছড়া খালের একটি শাখা রয়েছে। সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ওই খাল অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খালের ওপর বাঁশ ও লোহার সিঁড়ির কাঠামো ব্যবহার করে একটি চলাচলের পথ নির্মাণ করা হয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ পথ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে খালের জায়গা দখলের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জলাবদ্ধতা ও পরিবেশের ঝুঁকি
খাল নগরীর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খালের প্রবাহপথ সংকুচিত হলে কিংবা এর ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হলে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা স্থানীয় জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিষয়টি উল্লেখ করে
নন্দন হাউজিং সোসাইটি প্লট মালিক কল্যাণ পরিষদের আবেদনে বলা হয়েছে, কথিত অবৈধ পথ নির্মাণের ফলে সরকারি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তিন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন
খাল দখল ও অবৈধ পথ নির্মাণের অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে নন্দন হাউজিং সোসাইটি প্লট মালিক কল্যাণ পরিষদ একাধিক সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছে।
সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর আবেদন করা হয়। আবেদনে খাল দখল ও কথিত অবৈধ পথ নির্মাণের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত, সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং খাল ও সোসাইটির সীমানা রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে গত ১৩ মে একই বিষয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিচালকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু আবেদনকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁরা কোনো কার্যকর পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে পারেননি।
সমন্বিত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা জরুরি
সরকারি খাল দখল, খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ কেবল একটি আবাসিক এলাকার সমস্যা নয়; এটি নগরীর পানি নিষ্কাশন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে খালটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সীমানা সুরক্ষার দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়, তা স্পষ্ট করে প্রয়োজন অনুযায়ী সিটি করপোরেশন, সিডিএ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
দ্রুত পদক্ষেপ চান সোসাইটির নেতারা
নন্দন হাউজিং সোসাইটি প্লট মালিক কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. মজিবুল হক দেওয়ান (মিলন) ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মাবুদ লিটন স্বাক্ষরিত আবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে সোসাইটির বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে খালের সীমানা ও স্বাভাবিক প্রবাহ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ কামনা করেছেন।























