চট্টগ্রাম শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

বদলাচ্ছে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎচিত্র

বদলাচ্ছে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎচিত্র

মিজানুর রহমান

১০ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর চট্টগ্রামে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘নেট মিটারিং’ ব্যবস্থা। গত এক মাসেই বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) দক্ষিণাঞ্চলের অধীন এলাকাগুলোতে ১০০’র বেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন। নেট মিটারিং ব্যবস্থা সফলভাবে চালুর পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আয়ও করছেন কেউ কেউ।
 
 
নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে উৎসাহিত করতে গত ১ সেপ্টেম্বর বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এর আওতায় ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেউ ছাদভিত্তিক সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সরকার সেই বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট সাড়ে ১০ টাকায় কিনে নেবে। ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাকে এই দাম পরিশোধ করা হবে। এতে সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করেই সোলার স্থাপন খরচ তোলা সম্ভব হবে।
 
 
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন- দেশে নেট মিটারিং ধারণা নতুন নয়। বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এই ব্যবস্থা চালু ছিল। তবে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার পর এটি দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেক বড় বড় শিল্প-কারখানা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ির মালিকরা তাদের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন। তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে এটি আশার আলো দেখাবে।
 
 
চট্টগ্রাম নগর লাগোয়া ফৌজদারহাটে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করেছে। ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের অধীন ৫টি বড় প্রতিষ্ঠান এখন নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে – পিএইচপি শিপ ইয়ার্ড, প্যাসিফিক রিসাইকেল, বিএম কনটেইনার ডিপো, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং কেডিএস লজিস্টিকস।
 
 
ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইসমাইল হোসেন পূর্বকোণকে জানান, সোলার প্যানেল থেকে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ বিল অন্তত ২০ শতাংশ কমে গেছে। জাতীয় গ্রিড থেকে তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে সেখানে গ্রিডের বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে।
 
 
উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেন এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ধরুন দিনে এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের চাহিদা ৮০ হাজার ইউনিট। তারা উৎপাদন করলো ১ লাখ ইউনিট। অতিরিক্ত ২০ হাজার ইউনিট তারা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। যার মূল্য মাসিক বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে আমরা সমন্বয় করে দিচ্ছি। এতে তাদের বিলও কমে যাচ্ছে। আমরাও বাড়তি বিদ্যুৎ পাচ্ছি।
 
 
একই চিত্র কোরিয়ান ইপিজেডেও। নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর আগে এই প্রতিষ্ঠানের মাসিক বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ছিলো ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। তবে কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষ নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর পর এই বিলের পরিমাণ এখন ১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিড থেকে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।
 
 
পিডিবি দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, নেট মিটারিং ব্যবস্থার কারণে গ্রাহকরা সোলার প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত হচ্ছেন। বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণার পর সেই উৎসাহ আরও বেড়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে চাপ কমছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। এখন দিনে অন্তত ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা কমেছে। সামনে আরও কমবে।
 
 
নতুন প্যাকেজ ঘোষণা সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের আন্তরিকতার প্রতিফলন বলে মনে করেন সোলার মডিউল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম বাকি মাসুদ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে সরকার যে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে- নেট মিটারিং ব্যবস্থা জনপ্রিয় করায় সেটি খুব দ্রুত পূরণ হবে। এই খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। পেশাদারত্ব বাড়বে।
 
পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট