চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

অহেতুক দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীদের ছাড় নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী 

অহেতুক দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীদের ছাড় নয় : চট্টগ্রামে বাণিজ্যমন্ত্রী 

অনলাইন ডেস্ক

৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

ইচ্ছাকৃতভাবে জোটবদ্ধ হয়ে যদি দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 
 
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর)  আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ হুঁশিয়ারি দেন।
 
আসন্ন রমজান উপলক্ষে দেশে চিনি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের সরবরাহ ঘাটতি নেই। এ ছাড়া পাইপলাইনেও আমদানিতব্য পণ্য চালান রয়েছে।
 
সারাবছর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভৌগোলিক সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকাভিত্তিক কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। কোন অঞ্চলে কোন সময়ে কোন ফসল উৎপাদন হবে তা নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে খাদ্য ও সবজি উৎপাদন করা গেলে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারে পণ্যের ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে এবং সরকার সেই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী সমাজ সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ডাল, চাল, ছোলা, গম, সয়াবিন ও পাম অয়েল এবং চিনিসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতি ১৫ দিন পর পর সমন্বয় সভার মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। 
 
চট্টগ্রামের লজিস্টিকস ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শুধু চট্টগ্রাম থেকে পণ্য আনা বা নেওয়ার ক্ষেত্রে ১৩ টন ওজনসীমার বাধ্যবাধকতার কারণে ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। যার ফলে দাম বাড়ছে পণ্যের। তাই এই বিধিনিষেধ দ্রুত তুলে দিতে হবে যাতে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যয় না বাড়ে। 
 
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল নেওয়া ও ভাড়া সংক্রান্ত মিনিমাম প্রাইস জটিলতা আমদানি ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানে মিনিমাম প্রাইস নির্ধারণ ও সিরিয়াল নেওয়ার বাধ্যবাধকতা শর্ত তুলে দিতে হবে। 
 
পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ নবায়নে বিআইএন এর বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া এবং সদস্য অধিভুক্তি ও নবায়ন ফি নির্ধারণে স্ব-স্ব চেম্বারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদানে মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন চেম্বার সভাপতি। 
 
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও পোর্ট ইউজার্স ফোরামের চেয়ারম্যান আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সারাদেশে পণ্য পরিবহনে যে বৈষম্য রয়েছে তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা। তাই এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা এখন সময়ের দাবি। 
 
তিনি ঢাকা এবং সিলেটের মতো চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও দ্রুত কার্গো ভিলেজ বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন। 
 
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ বলেন, আঞ্চলিক এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তি করার ব্যাপারে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পর্কে বাংলাদেশের নেগোশিয়েটরদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা পর্যাপ্ত নয়। 
 
তাদের দক্ষতা উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 
 
চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী শিপব্রেকিং সেক্টরের বিভিন্ন ধরনের স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিতে ব্যাংকের অনাকাঙ্ক্ষিত শর্তাবলি থেকে নিষ্কৃতি পেতে মন্ত্রীর সহায়তা কামনা করেন। 
 
নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে বাজার মনিটরিং, ভেজাল পণ্য রোধে কঠোর নজরদারি এবং সরকারের ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক সৃষ্ট অহেতুক ভোগান্তি নিরসন করে তাদের জনবান্ধব করার আহ্বান জানান ব্যবসায়ীরা।  
 
সভায় বিজিএমইএর ১ম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এমএ সালাম, বিপিএএমইএর ১ম সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ চৌধুরী, কমিশনার অব কাস্টমস মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ ছালাম, সাবেক পরিচালক এসএম আবু তৈয়ব ও রেজাউল করিম আজাদ, বর্তমান চেম্বার পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী, বারভিডার সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান খান, ইস্টার্ন লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান মো. শাহ আলম, ক্যাবের সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন ও সেক্রেটারি কাজী ইকবাল বাহার সাবেরী, সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী, আমদানিকারক সিটি কমোডিটিজ’র মো. রাশেদ আলী ও বিএসআরএম গ্রুপের মনির হোসেন বক্তব্য দেন। 
 
চেম্বার পরিচালক এসএম সাইফুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, মো. জাহিদুল হাসান, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, শহীদুল আলম, মোহাম্মদ শফিউল আলম (বাদশা)-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 
 
পূর্বকোণ/রানা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট