চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

১৫১ টন বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংসে নেওয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে

১৫১ টন বিপজ্জনক পণ্য ধ্বংসে নেওয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে

অনলাইন ডেস্ক

৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে পড়ে থাকা ৯টি কনটেইনারের ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও কনটেইনার জট নিরসনে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম ২০০৩ সাল থেকে পড়ে থাকা এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী অ্যাসিড এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ধ্বংসের উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ জানান, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (BNACWC)-এর সুপারিশ এবং কাস্টমস হাউসের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মুড়াপাড়ার ‘ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মানুগ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হবে।

কাস্টমস সূত্র অনুযায়ী, স্থানান্তর হতে যাওয়া কেমিক্যালের মধ্যে রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিডের ১টি কনটেইনার, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডের ১টি কনটেইনার, ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানলের ৫টি কনটেইনার এবং ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনারের ২টি কনটেইনার। কাস্টমসের ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপজ্জনক কেমিক্যালবাহী যানবাহনগুলো কঠোর পুলিশ পাহারায় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। বিশেষ এই ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তায় বিএনএসিডব্লিউসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিএমপি, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, বিসিএসআইআর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আনসার ব্যাটালিয়ন যুক্ত রয়েছে। কেমিক্যালসমূহ ধ্বংস করার পর খালি কনটেইনারগুলো সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।

বন্দরে দীর্ঘদিন অলস পড়ে থাকা রাসায়নিক পণ্যের ঝুঁকি কমানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ হিসেবে এর আগেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০২১ সালে পি শেডে ২০ বছর ধরে পড়ে থাকা ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক সিলেটের সুনামগঞ্জের লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি গত ২৪ আগস্ট বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে বিশাল গর্ত করে ৩৪ কনটেইনারের ৯৩৫ টন পচা খেজুর, ৪০ কনটেইনারের ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ মোট ১২৬ কনটেইনার পচনশীল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করা হয়। এর আগে ৬ আগস্ট রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে ৫ কনটেইনারের ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও শ্যাম্পু ধ্বংস করা হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে নামার ৩০ দিনের মধ্যে খালাস করতে হয়। তবে বাজারে দরপতন, ভুয়া ঘোষণা, রাজস্ব ফাঁকি, আইনি জটিলতা বা প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে অনেক চালান আর খালাস হয় না। নিয়ম অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার পর নিলামে বিক্রি না হলে বা মেয়াদ শেষ হয়ে জনস্বাস্থ্যের হুমকি তৈরি করলে কাস্টমস তা ধ্বংসের উদ্যোগ নেয়। কাস্টমস পরিচালিত এ ধরনের কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসন ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট