চট্টগ্রাম শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬

সক্ষমতা বাড়াতে নির্মাণ হচ্ছে ১০ তলা ভবন

চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট 

সক্ষমতা বাড়াতে নির্মাণ হচ্ছে ১০ তলা ভবন

ইমরান বিন ছবুর

৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ

দক্ষ ও কর্মোপযোগী জনশক্তি গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ৫২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ১০তলা বিশিষ্ট আধুনিক ‘একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ভবন’। প্রায় ১৫ কাঠা জায়গার ওপর এই ভবনটি গড়ে উঠবে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ সাল। তবে এখনো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামসহ ১৫টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং দক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরির উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৫১ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে স্থাপিত ১৩টি এবং ২০০৬ ও ২০০৮ সালে স্থাপিত দুটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
 
 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেকারত্ব হ্রাস এবং দক্ষ ও কর্মোপযোগী জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে শিল্প ও সেবা খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখবে।শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম বলেন, ‘১৫টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের অধীনে এই ১০ তলা ভবনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের আধুনিক ল্যাব, শ্রেণি কক্ষ ও প্রশাসনিক কার্যালয় থাকবে। প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত থাকবে সব বিভাগের ল্যাব। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম তলায় প্রশাসনিক কার্যালয়। অষ্টম, নবম ও দশম তলায় থাকবে সিভিল, ইলেক্ট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট। এই তিনটি ডিপার্টমেন্টে প্রায় ছয় শতাধিক নতুন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো যাবে। ১৫ কাঠা জায়গার ওপর এ ভবনটি নির্মাণ করা হবে।’
মো. তানভীর ইসলাম আরো বলেন, গত ২৩ আগস্ট প্রকল্পের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর টেন্ডার রিসিভ করা হয়েছে। বর্তমানে টেন্ডার মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে। মূল্যায়ন শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হবে। 
 
 
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, এ প্রকল্পগুলো শুধু ভবন নির্মাণের জন্য নয়, এগুলো ভবিষ্যৎ গড়ার প্রকল্প। বিশ্বজুড়ে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে এবং দেশেও কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে এখনই আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। 
অধ্যক্ষ আরো বলেন, কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগের ফলে সক্ষম, আত্মবিশ্বাসী ও কর্মোপযোগী ডিপ্লোমা প্রকৌশলী তৈরির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।
 
 
গত বছরের ২৪ মে ১ হাজার ৫১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা বাড়ানোর এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। এ বিনিয়োগ প্রকল্পের আওতায় ১৪টি ১০ তলাবিশিষ্ট একাডেমিক কাম ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণ করা হবে। তিনটি পাঁচতলাবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম লাইব্রেরি ভবন, দুটি কম্পিউটার ও ওয়ার্কশপ ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, একটি অডিটোরিয়াম মেরামত ও আধুনিকায়ন এবং পাঁচটি পুরোনো ভবন অপসারণ করা হবে। একইসঙ্গে ১২টি পাঁচতলাবিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল ভবন, একটি পাঁচতলাবিশিষ্ট ছাত্রাবাস, একটি ১০তলাবিশিষ্ট শিক্ষক কোয়ার্টার, একটি ১০তলাবিশিষ্ট স্টাফ কোয়ার্টার, চারটি ১০তলাবিশিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারী কোয়ার্টার, আটটি পাঁচতলাবিশিষ্ট শিক্ষক ডরমিটরি, সাতটি পাঁচতলাবিশিষ্ট স্টাফ ডরমিটরি নির্মাণের পাশাপাশি আরও কিছু ব্যয় হবে।
 
 
পূর্বকোণ/মিফতা 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট