আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বাগানো ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিং এবার সরাসরি মাঠে গড়িয়েছে। জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের তীব্র বিরোধের জেরে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের চিত্র ফুটে উঠেছে কর্ণফুলীর এক কর্মসূচিতে, যা বাস্তবে দলটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই ও শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম কর্ণফুলীর কলেজ বাজার এ জে চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্ব-স্ব নির্বাচনী এলাকার সমর্থকদের বিশাল বহর নিয়ে এতে অংশ নেন এমপিরা। তবে এ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছে জেলা বিএনপির একটি বড় অংশ। জেলা বিএনপির আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া বা সদস্য সচিব লায় হেলাল উদ্দীন কেউ উপস্থিত ছিলেন না এই আয়োজনে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই কর্মসূচিকে জেলা নেতৃত্বের প্রতি সংসদ সদস্যদের একপ্রকার ‘খোলা চ্যালেঞ্জ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে জেলা কমিটির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করে আয়োজিত এমন পৃথক কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন। ঘটনাটিকে ‘সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি’ আখ্যা দিয়ে তিনি দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, “সংসদ সদস্যরা দলীয় কর্মসূচি করবেন যার যার এলাকায়। জেলা কমিটিকে কোনো কিছু না জানিয়ে এক জায়গায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি পালন করা সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি।”
অন্যদিকে কর্ণফুলীর সমাবেশ থেকে জেলা বিএনপির বিরোধী বলয়কে অত্যন্ত কঠোর ও শক্ত বার্তা দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে এমপিরা দলীয় মনোনয়ন ও নেতৃত্বের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সরওয়ার জামাল নিজাম প্রতিপক্ষ নেতাদের নিশানা করে বলেন, “গত জাতীয় নির্বাচনে দলেরই কিছু নেতা প্রার্থীদের বিরোধিতা করেছিলেন। তারা ধানের শীষে ভোট না দিয়ে জামায়াত ও মোমবাতি প্রতীকে ভোট দেন। সেই ‘সুযোগ সন্ধানী’ নেতারা এখন আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বাগাতে দলের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।”
সমাবেশে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম গ্রুপিং ও নেতৃত্বের বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “এটি এমপিদের দল। মাননীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। নির্বাচনে যারা আমাদের বিরোধিতা করেছে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই বিরোধী অংশকে আমরা কোনো সুযোগ বা ছাড় দেব না।”
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা কমিটির নেতৃত্বের বিপরীতে গিয়ে সংসদ সদস্যদের এই জোটবদ্ধ শোডাউন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে কোন্দল ও গ্রুপিং এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজ নিজ বলয়ের আধিপত্য ধরে রাখাই এখন উভয় পক্ষের প্রধান লক্ষ্য।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চন্দনাইশ আসনের এমপি জসিম উদ্দিন এবং সাতকানিয়া আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাদিম মোস্তফা আমিন। এ ছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আলী আব্বাস, এস এম মামুন মিয়া, অ্যাডভোকেট এস এম ফোরকান ও হাজী মোহাম্মদ ওসমানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
পূর্বকোণ/রানা

















