চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬

খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহ : মজুত-সংগ্রহ দুটোই ভালো তবুও বাড়ছে চালের দাম

খাদ্য বিভাগের ধান-চাল সংগ্রহ : মজুত-সংগ্রহ দুটোই ভালো তবুও বাড়ছে চালের দাম

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

২৫ জুন, ২০২৬ | ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্য মজুত পরিস্থিতি ভালো। চাল, গম ও ধানের মজুত রয়েছে প্রায় ২১ লাখ ৮৩ হাজার টন। গত বছরের মে মাসে ছিল ১৩ লাখ টনের বেশি। ১০ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুতকে ভালো হিসেবে মনে করে খাদ্য অধিদপ্তর। চলমান অভ্যন্তরীণ সংগ্রহও ভালো। মজুত ও সংগ্রহ কার্যক্রম ভালো থাকার পরও অকারণে বাড়ছে চালের দাম।

 

চালের বড় পাইকারি মোকাম পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘দুটি কারণে চালের দাম বেড়েছে। এর একটি হচ্ছে, সরকার চিনিগুঁড়া চালের রপ্তানি অনুমোদন। অন্যটি হচ্ছে, সিন্ডিকেটের অতিরিক্ত মজুতদারি। কর্পোরেট ও বড় মিলাররা সিন্ডিকেট করে চালের বাজার অস্থির করে তোলে। ভোক্তাদের অভিমত বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় মিল ও গুদামে কঠোরভাবে অভিযান চালাতে হবে। কারণ দেশে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও চালের দাম বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যায় না।’

 

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, মাসের ব্যবধানে প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) চালের দাম মানভেদে একশ থেকে তিন শ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে জিরাশাইল চাল ৩২-৩৩শ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬শ টাকা। মিনিকেট সিদ্ধ ২৪৫০ টাকা থেকে ২৫৫০-২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা সিদ্ধ (৫) ২৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গুঁটিসিদ্ধ ২২৫০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩৫০ টাকায়। কাটারি সিদ্ধ ৩৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাটারি ও চিনিগুঁড়া চালের দাম। কাটারি আতপ ৩৬০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা ও চিনিগুঁড়া ৬২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭,৮০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

 

সরকার ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে চালের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করবে খাদ্য বিভাগ।

 

খাদ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে আতপ চালের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ হাজার ৫০০ টন। গত বছর ছিল ৬ হাজার ৩৩ টন। এবার সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪৫০ টন। ধান সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয় ৬ হাজার ৫০৬ টন। গত বছর ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৩৫৯ টন। সরকার সিদ্ধ চালের দাম দিয়েছে ৪৯ টাকা করে। আতপ চালের দাম ৪৮ টাকা। চালের দাম গত বছরের তুলনায় এবার এক টাকা করে কমেছে। আর ধানের দাম গতবারের চেয়ে দুই টাকা বাড়িয়ে এবার ৩৬ টাকা করেছে।

 

খাদ্য অধিদপ্তর জানায়, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত চট্টগ্রামে আতপ চাল সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫৯৪ টন। সিদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৮৬০ টন। আর ধান সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৪ টন। ধান বেশি সংগ্রহ হয়েছে রাঙ্গুনিয়ায় ৬৮৬ টন ও বাঁশখালীতে ৭১৯ টন।

 

মজুত পরিস্থিতি :

ধানের বড় মৌসুম হচ্ছে বোরো আবাদ। মোট ধানের প্রায় ৫৪ শতাংশই উৎপাদিত হয় বোরো মৌসুমে। সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সবচেয়ে বেশি ধান ও চাল সংগ্রহ করে বোরো মৌসুমে। বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরবরাহের জন্য অভ্যন্তরীণ ছাড়াও বিদেশি উৎস থেকে চাল ও গম আমদানি করে সরকার মজুদ বৃদ্ধি করে।

বর্তমানে খাদ্য বিভাগের কাছে চাল মজুত রয়েছে ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৬ টন খাদ্যশস্য। এরমধ্যে চাল ১৬ লাখ ৬৯ হাজার ২০৬ টন। ধান এক লাখ ৭৭ হাজার ৬৭০ টন। গম তিন লাখ ৩৬ হাজার ৭৮০ টন। গত মে মাসে মজুত ছিল ১২ লাখ ২৫ হাজার ৮৭ টন। ২০২৫ সালের মে মাসে মজুত ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ১০ টন।

মজুত পরিস্থিতি ভালো থাকার পরও চালের দাম বাড়তির বিষয়ে মিলারদের দাবি, ধানের দাম বাড়ার কারণে চালের দাম বেড়েছে।
অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ :
প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে খাদ্য অধিদপ্তর। কৃষকদের কাছ থেকে ধান ও মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়। গত ২২ জুন পর্যন্ত খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ মজুত হচ্ছে নয় লাখ ১৮ ৩৮ টন। এরমধ্যে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৮৭৭ টন। গম ৫০০ টন।

বেড়েছে আমদানিও :
অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ পরিস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি আমদানিও বেড়েছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত সরকার চাল আমদানি করেছে ১২৬৮ দশমিক ৪৯ টন।

চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরি) রাজীব কুমার দে পূর্বকোণকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম নগরে ১৯ রাইস মিলের মধ্যে চাল সরবরাহের জন্য ১৯টি মিল চুক্তি করেছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে কৃষক যাতে ধানের ভালো দাম পায়। তাই ধানের দাম এবার দুই টাকা বাড়িয়েছে। সংগ্রহও ভালো হয়েছে।’

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট