সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, “বিগত সরকার পার্বত্য অঞ্চলের ১৩টি ভাষাভাষী জাতি বা সম্প্রদায়কে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে নামকরণ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পার্বত্য অঞ্চলের এই সম্প্রদায়গুলোকে ভিন্ন চোখে দেখেন না। তিনি বিশ্বাস করেন—আমরা সবাই নিবন্ধিতভাবে বা সার্বিকভাবে বাংলাদেশি। এ দেশে ধর্ম ও সম্প্রদায় যার যার হলেও দেশটা আমাদের সবার।”
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পুলিশ পরিচালিত হাইল্যান্ডার পার্কে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই দেশের প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ মাতৃভাষা, সংস্কৃতি ও আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে চর্চা ও পালন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র বা কোনো ব্যক্তির ক্ষমতা নেই তাদেরকে ‘বাঙালি’ হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার। তবে আমাদের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। এ দেশে বসবাস করতে হলে সবাইকে বাংলা ভাষায় কথা বলা ও লেখায় পারদর্শী হতে হবে।”
স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলা বিএনপি আহ্বান কমিটির সদস্য মংশৈম্রাই মারমার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার এবং উপজেলা বিএনপি-র সাবেক সভাপতি খামলাই ম্রোসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও রাজনৈতিক চাঙ্গাভাব দেখা গেছে।
আগামীকাল শনিবার সকালে প্রতিমন্ত্রী থানচির দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিদর্শনে যাবেন। সেখানে রেমাক্রী বাজার প্রাঙ্গণে স্থানীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে উন্নয়ন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি তুলে ধরতে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, তাঁর এই আগমন পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশ ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















