চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চার দিনেও ঢুকতে পারেননি নতুন উপাচার্য, বিক্ষোভ-কর্মবিরতিতে স্থবির চুয়েট

অনলাইনের যোগদান প্রত্যাখ্যান শিক্ষার্থীদের

চার দিনেও ঢুকতে পারেননি নতুন উপাচার্য, বিক্ষোভ-কর্মবিরতিতে স্থবির চুয়েট

রাউজান সংবাদদাতা

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮:১৪ অপরাহ্ণ

সরাসরি ক্যাম্পাসে উপস্থিত না হয়ে অনলাইন ও ডাকযোগে নতুন উপাচার্যের যোগদানপত্র পাঠানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। এই নিয়োগকে সর্বাত্মকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স এসোসিয়েশন পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত না হয়ে রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত যোগদানপত্র পাঠান। পরবর্তীতে অনলাইনে প্রশাসনিকভাবে তাঁর এই যোগদান সম্পন্ন হওয়ার খবর জানাজানি হলে ক্যাম্পাসে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। এর প্রতিবাদে ওইদিন রাতে জুম প্ল্যাটফর্মে জরুরি সভা ডেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. আহসানউল্লাহ জানান, অধ্যাপক সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আবাসিক হল ও জরুরি পরিষেবা বাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে সমিতির সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

শিক্ষকদের এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার অনলাইনে এক জরুরি সাধারণ সভা করে চুয়েট অফিসার্স এসোসিয়েশনও। সংগঠনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিক্ষক সমিতির দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে অফিসার্স এসোসিয়েশনও কর্মবিরতি পালন করবে, তবে জরুরি সেবা কার্যক্রম এর আওতামুক্ত থাকবে।

এদিকে, অনলাইন যোগদানকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন জোরদার করেছেন শিক্ষার্থীরাও। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ও টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। এ সময় ‘ভিসি হিসেবে কাকে চাই, সায়েম স্যারকেই আবার চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন সুজন বলেন, অনলাইনে ডাকযোগে উপাচার্য হিসেবে যোগদানপত্র পাঠানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীরা এই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

প্রশাসনিকভাবে নতুন উপাচার্যের যোগদানপত্র গৃহীত হলেও শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের এই অভূতপূর্ব প্রতিরোধের মুখে উপাচার্য এখনো ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা দায়িত্ব নিতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট