কক্সবাজারের পেকুয়ায় দুই দফা হামলার অভিযোগে ইউছুফ আলী প্রকাশ মুন্সি মিয়া (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পূর্ব টইটং আলিম্মার জিরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউছুফ আলী ওই এলাকার মৃত কাদের বকসুর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে নলকূপ থেকে সুপেয় পানি আনা নিয়ে ইউছুফ আলীর পুত্রবধূ কলি আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী নুরুল কাদেরের মেয়ে ফাহিম আক্তারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতিও হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরে ফাহিমের ভাই আকাশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কলি আক্তারকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় পুত্রবধূকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ইউছুফ আলীকেও মারধর করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এরপর আকাশ, তার বাবা নুরুল কাদের, ফাহিম আক্তার, বালি ও নুরুল কাদেরের দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা বেগমসহ কয়েকজন মিলে ইউছুফ আলী ও কলি আক্তারের ওপর ফসলি জমির ধানক্ষেতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. ফরমানের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে ইউছুফ আলী খুইন্যাভিটা স্টেশনে গেলে সেখানে তার ওপর আবারও হামলা করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মাথার ওপর তুলে ইটের রাস্তায় আছাড় মারা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে নুরুল কাদের, তার ছেলে আকাশসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।
গুরুতর আহত ইউছুফ আলীকে প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পুত্রবধূ কলি আক্তার বলেন, পানি আনাকে কেন্দ্র করে ফাহিমের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাকে ধানক্ষেতে মারধর করা হয়। তিনি দাবি করেন, তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং হামলার পর তার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। পরে খুইন্যাভিটা স্টেশনে তার শ্বশুরের ওপর হামলা করা হয়।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মনজুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিপক্ষের হামলায় ইউছুফ আলী প্রকাশ মুন্সি মিয়া নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো লিখিত এজাহার পাওয়া যায়নি। এজাহার পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















