চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

কক্সবাজারে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই এডিসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারে ঘুষ দাবির অভিযোগে দুই এডিসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চকরিয়া সংবাদদাতা

২১ এপ্রিল, ২০২৬ | ৪:৩৬ অপরাহ্ণ

ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঘুষ দাবির অভিযোগে দুর্নীতি মামলায় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব ও সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

মামলার অপর দুই অভিযুক্ত হলেন-ভূমি অধিগ্রহণ শাখার অফিস সহকারী অনিক দে ও নিন্মমান সহকারী মোহাম্মদ এমরান।

 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে ভুক্তভোগী জেলা এনসিপির আহবায়ক প্রফেসর আখতার আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটির বিচারক মো. আবদুর রহিম এ আদেশ দেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম গত ২০১৯ সালে মহেশখালীর ছৈয়দ নুরকে ১৫ লাখ টাকা ধার দেন। দেনাদার ছৈয়দ নুর টাকা প্রদানে গড়িমসি করলে তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার সার্বিক দিক বিবেচনা করে বিবাদীকে টাকা ফেরত দেয়ার আদেশ প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে টাকা পরিশোধ না করায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় বিবাদী ছৈয়দ নুরের অনুকূলে বরাদ্দ টাকা থেকে ফেরত দিতে আদালত আদেশ দেন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলে সমস্ত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে পাওনা টাকা আদালতের আদেশের অনুবলে ফেরত দিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

কিন্তু তৎসময়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন আহমদ সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে টাকা ফেরত না দিয়ে নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে আটকে রাখেন। এর প্রেক্ষিত গত ২০২৪ সালে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হলে পুনরায় টাকা ফেরত দিতে জেলা প্রশাসনকে আদেশ দেন। তারপরও নাজিম উদ্দিন আহমদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমরান হোসেন সজীব যোগসাজশ করে প্রাপ্য টাকা ফেরত ১০ শতাংশ হারে সাড়ে ৪ লাখ ঘুষ দাবি করেন।

 

এ নিয়ে মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারিক হাকিম মো. আবদুর রহিমের আদালতের বাদী আবারও আবেদন করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ভূমি অধিগ্রহণ শাখার নথি তলবের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মামলার নথি পর্যালোচনা করে জানান, ভুক্তভোগীর ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

 

এদিকে আদালতের আদেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মামলার বাদী প্রফেসর আখতার আলম জানান, তিনি আশা করছেন- আদালতের ন্যায়বিচার পাবেন।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট