চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

মা দিবসের চিঠি: মা’কে দেখি না ১০১ দিন!

এস.এম.রাহমান জিকু

১৪ মে, ২০২৪ | ১২:০৫ অপরাহ্ণ

যে নারীর আত্মত্যাগে আমরা এট্টু এট্টু করে বেড়ে উঠি- তিনিই আমাদের মা, আমাদের জীবনের প্রথম ভালোবাসা।

 

সকল নারীদের হাজারো গল্পের ভীড়ে একজন মায়ের গল্প অজানা থেকে যায়। সারাজীবন বিনা পারিশ্রমিকে খেটে যাওয়া নারীদের মা দিবসের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

 

অতঃপর- মা দিবসে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর সকল মায়ের চরণে।

 

আমি জিতলে- জিতে যায় মা। মা শুধু একটি শব্দ নয়, একটি আমৃত্যু অনুভূতির নাম।

 

প্রিয় মা,

 

অনার্স ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যাপক ব্যস্ত সময় কাটছে। এদিকে পরীক্ষার সময়ও যেন দরজায় কড়া নাড়ছে। অথচ- তোমাকে দেখি না ১০১ দিন পেরোলো। আজ তোমাকে ভীষণ মনে পড়ছে মা।

 

তুমি নিশ্চয়ই জানো মা, তোমার খোকা প্রতিবারে মাস ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই বাড়ি ফিরে। দীর্ঘ ৬টি বছর এভাবেই কেটেছে মা। ফাইনাল পরীক্ষা না হলে এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটতো না মা।

 

শৈশব-কৈশোরের সুদীর্ঘ ১৮টি বছর তোমার ছায়াতলে কাটিয়েছি মা। এই ১৮টি বছরই বোধহয় আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। উচ্চ শিক্ষা অর্জনে ব্যয় করা বিগত ৬টি বছর আমার বিষণ্নতায় কেটেছে মা। এই সময়গুলোতে তোমার সাথে দীর্ঘ বিচ্ছেদ ভীষণ রকমের ভয়ংকর অনুভূতি তৈরি করেছে মা।

 

তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে মা, সেই শৈশবের তপ্ত দুপুরের কথা। যখন তুমি আমাকে জোর করে ঘুম পাড়িয়ে দিতে নিয়ে যেতে, তখন আমি কিছুক্ষণ ইচ্ছে করেই চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর অভিনয় করতাম। আর যখনই তুমি সারাদিনের ক্লান্ত শরীর নিয়ে চোখ বন্ধ করতে, পরক্ষণেই আমি তোমাকে ঘুমিয়ে রেখে বেরিয়ে পড়তাম। এভাবেই কেটেছে আমার সমস্ত শৈশবের তপ্ত দুপুর।

 

আমার অসুখ-বিসুখের দিনে তোমার নির্ঘুম রাত্রি যাপন আমার ভীষণ মনে পড়ছে মা। আমার জন্য তোমাকে সারাদিনে কতশত যন্ত্রণা পোহাতে হতো মা। আমি তোমার সেই নির্বোধ খোকা মা। আজ আমি বুঝতে শিখেছি মা। যখনই বুঝতে শিখেছি, তখনই সময়ের স্রোতে আমাদের সোনালি সময়গুলো বড্ড অসহায় মা।

 

সমস্ত শৈশব জুড়ে আষ্ঠেপৃষ্ঠে লেগে থাকা তোমার কঠিনতম বকাঝকা ও শাস্তির ভয় আমার আমৃত্যু প্রিয় মা। তোমার শাস্তির ভয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ির আঙিনা ঘেঁষার সাহস পেতাম না মা। শেষমেশ আব্বু অফিস থেকে ফেরার পথে আব্বুর পিছন ধরে বাড়ি ঢুকে যাওয়ার কথা ভীষণ মনে পড়ছে মা।

 

তোমার সমস্ত বকাঝকা ও শাসনের আড়ালে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও অসীম যত্ন আমি বুঝতে শিখেছি মা। তোমার জন্য মা, শুধু তোমার জন্যই আজ তোমার খোকা পড়াশোনা শেষ দোরগোড়ায় পৌঁছেছে।

 

তোমার দোয়া ও ভালোবাসায় একদিন আবারও আমাদের শ্রেষ্ঠ সময় ফিরে আসবে মা। যেখানে দূরত্বের ছিটেফোঁটাও থাকবে না মা। সেই সোনালি দিনের অপেক্ষায় থেকো মা।

 

সর্বোপরি- তোমার সার্বিক সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু প্রার্থনা করি। স্রষ্টা তোমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখুক। সবসময়ই ভালো থেকো, সুন্দর থেকো মা।

 

ইতি
তোমার আদরের খোকা

 

লেখক
শিক্ষার্থী,
চট্টগ্রাম কলেজ।
ঠিকানা: কলেজ রোড, চকবাজার, চট্টগ্রাম।

 

পূর্বকোণ/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট