রাউজান বিসিক শিল্পনগরে শিল্পপ্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। ১০ বছর পর জট খুলতে যাচ্ছে এই শিল্পাঞ্চলের। ইতিমধ্যেই ১৫-২০ জন শিল্পোদ্যোক্তা ফরম সংগ্রহ করেছেন। বিসিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ‘বিসিক শিল্পনগরী রাউজান’ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৯৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত করা হয়। বাড়তি মেয়াদেও প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ঠিকাদাররা আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এই শিল্পাঞ্চলের অনুমোদন ও ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর নতুন কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেছিলেন রাউজানবাসী। কিন্তু এক দশক ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ও জঙ্গল রাউজান মৌজায় ৩৫ একর ভ‚মি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ১৮৪টি শিল্পপ্লট তৈরির কথা রয়েছে। শিল্প ইউনিটের সংখ্যা ১৪৮টি। এখানে পোশাক, প্লাস্টিক, খেলনা তৈরির কারখানাসহ কুটির শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে।
বিসিক চট্টগ্রাম জেলার উপ-মহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর আলকাদেরী বলেন, ‘বিসিক শিল্পনগরী রাউজানের জন্য শিল্পপ্লট বরাদ্দের আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৫-২০ জন শিল্পোদ্যোক্তা ফরম সংগ্রহ করেছেন। আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ফরম বিতরণ করা হবে।’ গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-মহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর বলেন, ‘শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ লাইন রাখা হয়েছে। কারখানা প্রতিষ্ঠার পর সংযোগ স্থাপন করা হবে।’
বিসিকের তথ্য বলছে, শিল্পপ্লটের জন্য উদ্যোক্তাদের বাড়তি চাহিদা পূরণ, ১৪৮টি এসএমই ইউনিট স্থাপনের জন্য ১৮৪টি শিল্পপ্লটের অবকাঠামো সুবিধার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুত ১৬২ প্লট : এই শিল্পনগরে ১৮৪টি প্লট বরাদ্দের কথা রয়েছে বিসিকের নথিতে। বর্তমানে ১৬২টি প্লট বরাদ্দের দেওয়ার উপযোগী বলে জানায় বিসিক। বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর বলেন, ‘এক পাশে দেয়াল ধসে মাটি সরে গেছে। ভূমি উন্নয়নের পর ওই অংশে প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।’
বর্তমান অবস্থা : বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পটি গত আড়াই বছর ধরে অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় রযেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় একাধিক স্থানে সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে। বৃষ্টির পানিতে দেয়ালের নিচ দিয়ে ভরাট মাটি সরে গেছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে মাটি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, সড়ক, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও গ্যাসলাইন নির্মাণের কাজ শেষ হয়।
বিসিক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিল্পনগরের মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর-তোরণ নির্মাণ ও তিনতলার অফিস ভবন নির্মাণের কাজ পেয়েছিল রাজনীতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও রাউজান পৌরসভার সাবেক মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে তিনি আত্মগোপনে। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রয়েছে।
বিসিক চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর আল কাদেরী বলেন, ‘প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মাটি ধসের ঘটনা ঘটেছে। নিম্মমানের নির্মাণকাজের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার বলা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। এই কারণে তাদের জামানতের অর্থ জব্দের প্রক্রিয়া চলছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শিল্পনগরীর কাজ শুরু হওয়ার পর রাউজানবাসী নতুন কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শিল্প-কারখানা গড়ে না ওঠায় অনেকটা আশাহত হন এলাকাবাসী।
বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক এস এম এম আলমগীর বলেন, ‘নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন কাজ ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছে।’
পূর্বকোণ/মিফতা

















