চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ওয়ান-টাইম গ্লাসের আকাল! যাত্রীদের ক্ষোভ

বছরে যাতায়াত করেন ১৮ লাখ যাত্রী

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ওয়ান-টাইম গ্লাসের আকাল! যাত্রীদের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১:১৭ অপরাহ্ণ

বছরে প্রায় ১৮ লাখ যাত্রীর যাতায়াত। প্রতিদিন দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টির বেশি ফ্লাইটের ওঠানামা। দেশের অন্যতম ব্যস্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এমন কর্মযজ্ঞের বিপরীতে ডোমেস্টিক লাউঞ্জে যাত্রীদের খাবার পানির ব্যবস্থায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে একের পর এক যাত্রী পানি পান করছেন একই পুনঃব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের গ্লাসে। নেই একবার ব্যবহারযোগ্য একটি কাপও। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে যাত্রীসেবা ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে।

 

 

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ১৮ লাখ দেশি-বিদেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি ফ্লাইট ওঠানামা করে। এসব ফ্লাইটের আগে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ডোমেস্টিক লাউঞ্জে অপেক্ষা করেন।

 

 

ডোমেস্টিক লাউঞ্জে দেখা যায়, খাবার পানির ডিসপেনসারের পাশে রাখা হয়েছে একটি লাল রঙের পুনঃব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের গ্লাস। একের পর এক যাত্রী এসে ওই একই গ্লাসে পানি নিয়ে পান করছেন। পানি পান শেষে গ্লাসটি আবার ডিসপেনসারের পাশে রেখে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী যাত্রী এসে সেটিই ব্যবহার করছেন। সেখানে একবার ব্যবহারযোগ্য কাপের কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। অথচ বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নির্দেশনায় নিরাপদ পানির সরবরাহ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

 

এদিকে, অসংখ্য যাত্রীর নিয়মিত যাতায়াত থাকা সত্ত্বেও পানির মতো মৌলিক সেবায় এমন ব্যবস্থা কেন- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, দ্রুত একবার ব্যবহারযোগ্য কাপ অথবা স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প পানির ব্যবস্থা করা হোক।

 

 

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে একই পাত্র একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাত্রটি যথাযথভাবে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত না করা হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। তাই যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানির পাশাপাশি পানি পানের পাত্রের স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডোমেস্টিক লাউঞ্জে অপেক্ষমাণ যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। সেখানে পানির জন্য একটি ওয়ান-টাইম কাপের ব্যবস্থা নেই, এটি দুঃখজনক। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার এমন মৌলিক বিষয়েও কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, বিষয়টি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

পূর্বকোণ/আদর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট