দুর্বৃত্তদের হাতে ‘জিম্মি’ হয়ে পড়া কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পুরো শিল্পনগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি চারটি প্রবেশপথে গেট নির্মাণের ব্যবস্থা করা, শিল্প পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিল্পনগরীর সড়কের ওপর বসানো অস্থায়ী ও অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রায় এক বছর ধরে অন্তত ৩০ জন দুর্বৃত্ত এই শিল্পনগরীতে চষে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই বিভিন্ন কারখানায় প্রকাশ্যে জিনিসপত্র চুরির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতনও হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। তাদের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে উপরের পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরীতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। বিসিক শিল্পনগরীর মোস্তফা গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম।
বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক খালেক মাহমুদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) মৌমিতা দাশ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল আমিন হোসেন, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) কাজী মো. বিধান আবিদ, চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) মো. ইমাম জাকারিয়া, বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি ওয়াহিদ মালেক, সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার দাশসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শিল্প-মালিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোস্তফা গ্রুপের ডিরেক্টর তাইমুর রহমান, অলিম্পিক মিল্ক ফুডের ডিরেক্টর আফতাব উদ্দিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প পুলিশ-৩, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, ‘সার্বিক নিরাপত্তায় কালুরঘাট বিসিক শিল্পনগরী এলাকাকে পুরো সিসিটিভির আওতায় নেওয়া, শিল্প কারখানাসমূহে নিজস্ব নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বিসিকের অধীনে নিরাপত্তা আনসার সদস্য নিয়োগ, সংঘটিত অপরাধ শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিরাপত্তা জোরদারে চারটি প্রবেশপথে গেটের ব্যবস্থা করতে বিসিকের প্রতি আহ্বান জানান মাহমুদা বেগম। তিনি বলেন, ‘বিসিকের অভ্যন্তরে জায়গা বরাদ্দ পেলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্প চালু করা হবে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরপর যথাসময়ে সংঘটিত ঘটনার তথ্য সংশ্লিষ্ট থানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশকে তাৎক্ষণিক জানাবেন।’এছাড়া শ্রমিকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনারের কার্যক্রম গ্রহণ এবং স্ব স্ব ফ্যাক্টরির উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান পুলিশ সুপার।
সভাপতির বক্তব্যে বিসিকের আঞ্চলিক পরিচালক খালেক মাহমুদ বিসিক শিল্পনগরীর নিরাপত্তায় নতুন নিরাপত্তা গেট নির্মাণ এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
জানতে চাইলে বিসিক শিল্প মালিক সমিতির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করে পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা, মালিক সমিতির জন্য একটি জায়গা বরাদ্দ দেওয়া এবং অবৈধ ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করা। কেননা আমরা মনে করি এসব দোকান উচ্ছেদ করা হলে অপরাধ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ এসব দোকান ঘিরে দুর্বৃত্তরা মদ-গাঁজার আসর বসায়। আর সুযোগ বুঝে চুরি-ছিনতাই করে।’
পূর্বকোণ/আদর


















