চট্টগ্রাম বন্দরের সেবা কার্যক্রমকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে বন্দরের মাশুল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা, বিশেষ ডেলিভারি এসাইনমেন্টের অনলাইন অনুমোদন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমসের এপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে অকশন ডেলিভারি এবং ব্রেক-বাল্ক অপারেশন দ্রুত অনলাইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন সংস্করণের টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমে (টস) বিভিন্ন টিকিট ও ই-গেট পাস সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্দরের যানজট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করা, দ্রুত পণ্য খালাস, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বন্দর এলাকার যানজট নিরসনে ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বন্দরের সেবাসমূহের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছুটির দিনেও অনলাইন পেমেন্ট
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ১০০ শতাংশ ডিজেল বিল অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। পাশাপাশি কনটেইনার ও কনসাইনি বিল শতভাগ টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবনির্মিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপন এবং এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ছুটির দিন ও অফ-টাইমসহ যেকোনো সময় অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা চালু করা হয়েছে।
এর ফলে বন্দর ব্যবহারকারীদের বিল বা মাশুল পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের ওপর নির্ভর করতে হবে না। সরাসরি অনলাইনে পেমেন্টের সুযোগ থাকায় সেবা গ্রহণের সময় কমার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজনও কমবে।
ই-গেট পাস ও গেট ইন-আউট শতভাগ অনলাইনে
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেট ইন/আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব সফটওয়্যার টিওএস’র মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ড টিকিট ও ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি নিশ্চিত করার কার্যক্রমও চলছে।
বন্দরের মাশুলাদি আদায় সংক্রান্ত কোনো পেমেন্ট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে না হলে অটো পুল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি টিওএস’র মাধ্যমে অনলাইনে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্ট অনুমোদন এবং এনবিআর/কাস্টমসের এপিআই’র মাধ্যমে অকশন ডেলিভারির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এতে মাশুল আদায়, পণ্য ডেলিভারি ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় কমার পাশাপাশি কাগজনির্ভরতা কমবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
যানজট কমাতে টিকিট ও ই-গেট পাসে সমন্বয়
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টস’র নতুন সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন করা হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে পণ্যবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
এছাড়া ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইম ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেট ও কনফার্মেশন এবং অফডক ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালে রুট-বাই-রুট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।
এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে বন্দরে ট্রাকের অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও চলাচল কমিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থাপনাও আরও পরিকল্পিত ও ডিজিটাল হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে ‘পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্ট’
বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ পেপারলেস ও স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এ জন্য বন্দরের বিভিন্ন সেবা, অনুমোদন, বিলিং, পেমেন্ট, গেট ব্যবস্থাপনা ও পণ্য ডেলিভারি প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের ফলে সময় ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত বকেয়া আদায়সহ নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে সেবার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন কাজে সরাসরি অফিসে গিয়ে কাগজপত্র সম্পাদনের প্রয়োজন কমবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব ডিজিটাল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব ব্যবহারকারী ও স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।
পূর্বকোণ/আরআর

















